প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একাদশী বৈরাগী আবার একটাক চাইতে এসেচিস্ কোন লজ্জায় শুনি ? বলি সুদ-টুদ কিছু এনেচিম ? নফর ট্যাক খুলিয়া এক আনা পয়সা বাহির করিতেই একাদশী চোখ রাঙাইয় কহিল, তিন মাস হয়ে গেল না রে ? অার দু’টো পয়সা কই ? নফর হাত-যোড় করিয়া বলিল, আর নেই কৰ্ত্ত ; ধাড়ার পোর কত হাতে-পায়ে পড়ে পয়সা চারটি ধার করে আনচি, বাকি দুটো পয়সা আসচে হাট-বারেই দিয়ে যাব। একাদশী গলাবাড়াইয়া দেখিয়া বলিল, দেখি তোর ওদিকের ট্যাকটা ? নফর বঁা-দিকের ট্যাকটা দেখাইয়া অভিমানভরে কহিল, দুটো পয়সার জন্ত মিছে কথা কইচি কৰ্ত্ত ? যে শালা পয়সা এনেও তোমাদের ঠকায়, তার মুখে পোকা পডুক, এই বলে দিলুম। একাদশী তীক্ষ-দৃষ্টিতে চাহিয়া কহিল, তুই চারটে পয়সা ধার করে আনতে পারলি, আর দুটো এমনি ধার করতে পারলিনে ? i. নফর রাগিয়া কহিল, মাইরি দিলাসা করলুম না কৰ্ত্তা ! মুখে পোকা পড়ুক— অপূৰ্ব্বর গা জলিয়া যাইতেছিল, সে আর সহ করিতে না পারিয়া বলিয়া উঠিল, আচ্ছা লোক তুমি মশায় ! একাদশী একবার চাহিয়া দেখিল মাত্র, কোন কথা কহিল না। পরাণ বাগদী সম্মুখের উঠান দিয়া যাইতেছিল ; একাদশী হাত নাড়িয়া ডাকিয়া কহিল, পরাণ, নফরার কাছাটা একবার খুলে দেখ, ত রে, পয়সা দুটাে বাধা আছে নাকি ? পরাণ উঠিয়া আসিতেই নফর রাগ করিয়া তাহার কাছার খুটে বাধা পয়সা দুটো খুলিয়া একাদশীর স্বমুখে ছুড়িয়া ফেলিয়া দিল। একাদশী এই বেয়াদপিতে কিছুমাত্র রাগ করিল না । গম্ভীর-মুখে পয়সা ছয়টা বাক্সে তুলিয়া রাখিয়া গোমস্তাকে কহিল, ঘোষালমশাই, নফরার নামে সুদ আদায় জমা করে নেন । ই রে, একটা টাকা কি আবার করবি রে ? নফর কহিল, আবশ্যক না হলেই কি এসেচি মশাই ? একাদশী কহিল, আট আনা নিয়ে যা না ! গোটা টাকা নিয়ে গেলেই ত নয় ছয় করে ফেলবি রে । তার পরে অনেক কষা-মাজা করিয়া নফর মোড়ল বারে আনা পয়সা কর্জ দইয়া প্রস্থান করিল। বেলা বাড়িয়া উঠিয়াছিল। অপুৰ্ব্বর সঙ্গী অনাথ চাদার খাতাটা একাদশীর সম্মুখে নিক্ষেপ করিয়া কহিল, যা দেবেন দিয়ে দিন মশাই, আমরা আর দেরি করতে পারিনে । \రిరి -8