প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩৪৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বিপিন বলিতে লাগিল, আমরা কি ভিখারী যে দু'কোশ পশ হেঁটে এই রৌদ্রে চারগও পয়সা ভিক্ষে চাইতে এসেচি ? তাও আবার আজ নয়, কবে ওঁর কোন খাতকের পাট বিক্রী হবে, সেই খবর নিয়ে আমাদের আর একদিন হাটতে হবে— তবে যদি বাবুর দয়া হয়! কিন্তু লোকের রক্ত গুযে মদ খাও বুড়ে, মনে করেচ জোকের গায়ে জোক বসে না ? আমি এখানেও না তোমার হাড়ির হাল করি ত আমার নাম বিপিন ভট্চায্যিই নয়। ছোট-জাতের পয়সা হয়েচে বলে চোখে কানে আর দেখতে পাও না ? চল হে অপূৰ্ব্ব, আমরা যাই, তার পরে যা জানি করা যাবে। বলিয়া সে অপুর্বর হাত ধরিয়া টান দিল। বেলা এগারটা বাজিয়া গিয়াছিল। বিশেষতঃ এতটা পথ হাটিয়া আসিয়া অপূৰ্ব্বর অত্যন্ত পিপাসা বোধ হওয়ায় কিছুক্ষণ পূৰ্ব্বে চাকরটাকে সে জল আনিতে বলিয়া দিয়াছিল। তাহার পর কলহ-বিবাদে সে-কথা মনে ছিল না। কিন্তু তাহার তৃষ্ণার জল এক হাতে এবং অন্ত হাতে রেকবীতে গুটি-কয়েক বাতাসা লইয়া একটি সাতাশ-আটাশ বছরের বিধবা মেয়ে পাশের দরজা ঠেলিয়া ভিতরে প্রবেশ করিতে তাহার জল চাওয়ার কথা স্মরণ হইল। গৌরীকে ছোটজাতের মেয়ে বলিয়া কিছুতে মনে হয় না। পরণে গরদের কাপড় ; স্বানের পর বোধ করি এইমাত্র আহ্নিক করিতে বসিয়াছিল, ব্রাহ্মণ জল চাহিয়াছে, চাকরের কাছে শুনিয়া সে আহ্নিক ফেলিয়া ছুটিয়া আসিয়াছে। কহিল, আপনাদের কে জল চেয়েছিলেন যে ? বিপিন কহিল, পাটের শাড়ী পরে এলেই বুঝি তোমার হাতে জল খাব আমরা ? অপূৰ্ব্ব, ইনিই সে বিপ্তেধর হে! চক্ষের নিমিৰে মেয়েটির হাত হইতে বাতাসার রেকর্ণবট ঝনৎ করিয়া নীচে পড়িয়া গেল এবং সেই অসীম লজ্জা চোখে দেখিয়া অপূৰ্ব্ব নিজেই লজ্জায় মরিয়া গেল। সক্রোধে বিপিনকে একটা কচুয়ের গুতো মারিয়া কহিল, এ-সব কি বাদরামি হচ্ছে ? কাণ্ডজ্ঞান নেই ? বিপিন পাড়াগায়ের মানুষ, কলহের মুখে অপমান করিতে নর-নারী ভেদাভেদজ্ঞান-বিবর্জিত নিরপেক্ষ বীরপুরুষ। সে অপূৰ্বর খোচ খাইয়া আরও নিষ্ঠুর হইয়া উঠিল। চোখ রাঙাইয়া হাকিয়া কহিল, কেন, মিছে কথা বলচি নাকি ? ওর এতবড় সাহস যে, বামুনের ছেলের জন্য জল আনে? আমি হাটে হাড়ি ভেঙে দিতে পারি জানো ? অপূৰ্ব্ব বুঝিল আর তর্ক নয়। অপমানের মাত্র তাহাতে বাড়িবে বই কমিবে না। কহিল, আমি আনতে বলেছিলুম বিপিন, তুমি না জেনে অনর্থক ঝগড়া ক’রে না। চল, আমরা এখন যাই । SN28