প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ঘোষাল বিস্মিত হইয়া কহিল, আবার সুদ ? একাদশী কহিল, বেশ, দিতে হবে না ! টাকা এতদিন খেটেচে ত, বসে ত থাকেনি! আট বছরের সুদ, এই ক’মাস সুদ বাদ পড়বে। তখন স্বদে-আসলে প্রায় সাড়ে-সাতশ’ টাকা হইল। একাদশী ভগিনীকে লক্ষ্য করিয়া কহিল, দিদি, টাকাটা তবে সিন্দুক থেকে বার করে আনে । ই বাছ, সব টাকাটাই একসঙ্গে নিয়ে যাবে ত ? বিধবার অন্তরের কথা অন্তর্যামী, শুনিলেন ; চোখ মুছিয়া প্রকাতে কহিল, ন বাবা, অত টাকার আমার কাজ নেই ; আমাকে পঞ্চাশটি টাকা এখন শুধু দাও। তাই নিয়ে যাও মা । ঘোষালমশাই, খাতাটা একবার দাও, সই করে নেই ; আর বাকি টাকার তুমি একটা চিঠি করে দাও। ঘোষাল কহিল, আমি সই করে নিচ্চি। তুমি আবার— একাদশী কহিল, না না, আমাকেই দাও না ঠাকুর, নিজের চোখে দেখে দিই। বলিয়া খাতা লইয়া অৰ্দ্ধ-মিনিট চোখ বুলাইয়া হাসিয়া কহিল, ঘোষালমশাই, এই যে একজোড়া আসল মুক্ত ব্রাহ্মণের নামে জমা আছে । আমি জানি কি না, ঠাকুরমশাই আমাদের সব সময়ে চোখে দেখতে পায় না, বলিয়া একাদশী দরজার দিকে চাহিয়া একটু হাসিল । এতগুলি লোকের স্বমুখে মনিবের সেই ব্যঙ্গোক্তিতে ঘোষালের মুখ কালি হইয়া গেল । সেদিনের সমস্ত কৰ্ম্ম নিৰ্বাহ হইলে, অপূৰ্ব্ব সঙ্গীদের লইয়া যখন উত্তপ্ত পথের মধ্যে বাহির হইয়া পড়িল, তখন তাহার মনের মধ্যে একটা বিপ্লব চলিতেছিল। ঘোষাল সঙ্গে ছিল, সে সবিনয়ে আহবান করিয়া কহিল, আসুন, গরীবের ঘরে অন্ততঃ একটু গুড় দিয়েও জল খেয়ে যেতে হবে। অপূৰ্ব্ব কোন কথা না কহিয়া নীরবে অমুসরণ করিল। ঘোষালের গা জলিয়া যাইতেছিল ; সে একাদশীকে উদ্দেশ করিয়া কহিল, দেখলেন, ছোটলোক ব্যাটার আস্পদ্ধা ? আপনাদের মত ব্রাহ্মণ-সন্তানের পায়ের ধূলো পড়েচে, হারামজাদার ষোলপুরুষের ভাগ্যি; ব্যাটা পিশেচ কি না পাচ গগু পয়সা দিয়ে ভিখারী বিদেয় করতে চায় ! বিপিন কহিল, দু’দিন সবুর করুন না ; হারামজাদা মহাপাপীর ধোপা-নাপতে বন্ধ করে পাচ-গণ্ড পয়সা দেওয়া বার করে দিচ্চি। রাখালবাবু আমাদের কুটুম, সে মনে রাখবেন ঘোষালমশাই । VENE,’