প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন অবিনাশ কহিত, ইংরাজের আদালতের কথা ছেড়ে দিন আশুবাবু। আপনি নিজেই ত জমিদার—এখানে সবলের বিরুদ্ধে দুৰ্ব্বল কবে জয়ী হযেচে আমাকে বলতে পারেন ? আগুবাবু কহিতেন, ন না, সে-কথা ঠিক নয়, সে-কথা ঠিক নয়, তবে আপনার কথাও যে অসত্য তাও বলতে পারিনে। কিন্তু কি জানেন— মনোরম হঠাৎ আসিয়া পড়িলে হাসিয়া বলিত, জানেন সবাই। বাবা, তুমি নিজেই মনে মনে জান অবিনাশবাবু মিথ্যে তর্ক করচেন না। ইহার পরে আশুবাবুর মুখে আর কথা যোগাইত না । শিবনাথের সম্বন্ধে মনোরমার বিমুখতাই ছিল যেন সবচেয়ে বেশি ! মুখে সে বিশেষ কিছুই বলিত না, কিন্তু পিতা কন্যাকেই ভয় করিতেন সৰ্ব্বাপেক্ষা অধিক । যেদিন সন্ধ্যাবেলায় শিবনাথ ও তাহার স্ত্রী জলে ভিজিয়া এ-বাড়িতে আশ্রয় লইতে বাধ্য হইয়াছিল, তাহার দিন-দুই পৰ্য্যন্ত আশুবাবু বাতের প্রকোপে একেবারে শয্যাগত হইয়া পড়িয়াছিলেন। নিজে নড়িতে পারেন নাই, অবিনাশও কাজের তাড়ায় আসিয়া জুটিতে পারেন নাই। কিন্তু আসিবামাত্রই আগুবাবু বাতের ভীষণ যাতন ভুলিয়া আরাম-কেদারায় সোজা হইয়া বসিয়া বলিলেন, ওহে অবিনাশবাবু, শিবনাথের স্ত্রীর সঙ্গে যে আমাদের পরিচয় হয়ে গেল। মেয়েটি যেন একেবারে লক্ষ্মীর প্রতিমা । এমন রূপ কখনো দেখিনি। মনে হ’ল এদের দু’জনকে ভগবান কোন উদ্দেশ্য নিয়ে মিলিয়েচেন । বলেন কি ? ই তাই । দুজনকে পাশাপাশি রাখলে চেয়ে থাকতে হবে । চোখ ফেরাতে পারবেন না, তা বলে রাখলাম অবিনাশবাবু। অবিনাশ সহাস্তে কহিলেন, হতে পারে। কিন্তু আপনি যখন প্রশংসা স্বরু করেন তখন আর মাত্রা থাকে না । আগুবাবু ক্ষণকাল তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া থাকিয়া বলিলেন, ও দোষ আমার আছে। মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারলে এ-ক্ষেত্রেও যেতাম, কিন্তু শক্তি নেই। যাই কেন না এর সম্বন্ধে বলি মাত্রার বা দিকেই থাকবে ডানদিকে পৌছবে না । অবিনাশ সম্পূর্ণ যে বিশ্বাস করিলেন তাহ নয়, কিন্তু পূর্বের পরিহাসের ভঙ্গিও আর রহিল না । বলিলেন, সেদিন শিবনাথ তা হলে অকারণ দম্ভ করেনি বলুন ? পরিচয় হ’ল কি করে ? ૨૮: