প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ অত্যন্ত ভয়ের কথা। দ্বিতীয়টা বর্ণনা করুন। দ্বিতীয় এই যে, আজ কি একটা পর্বোপলক্ষে হিন্দুস্থানী নারীকুল যমুনা-কুলে সমবেত হয়েচেন এবং হরেন্দ্র-অক্ষয় প্রভৃতি পণ্ডিত-সমাজ নির্লিপ্ত নির্বিকার-চিত্তে তথায় এইমাত্র অভিযান করেচেন। * ভাল কথা। তৃতীয় দশ বিবৃত করুন। দর্শনেচ্ছু আগু বপ্তি অতি উৎকষ্ঠিত-হৃদয়ে অবিনাশের অপেক্ষা করেচেন, প্রার্থনা, তিনি যেন অস্বীকার না করেন । অবিনাশ সহাস্তে কছিলেন, তিনি প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন। এবার চতুর্থ দশার বিবরণ দিন । আপ্তবাবু বলিলেন, এইটে একট গুরুতর। বাবাজী বিলাত থেকে ভারতে পদার্পণ করে প্রথমে কাশী এবং পরে এই আগ্রায় এসে পরশু উপস্থিত হয়েচেন । সম্প্রতি মোটরের কল বিগড়েচে, বাবাজী স্বয়ং মেরামত-কার্য্যে নিযুক্ত। মেরামত সমাপ্তপ্রায় এবং তিনি এলেন বলে। অভিলাষ, প্রথম জ্যোৎস্নায় সবাই একসঙ্গে মিলে আজ তাজমহল নিরীক্ষণ করা । অবিনাশের হাসিমুখ গম্ভীর হইল, জিজ্ঞাসা করিলেন, এই বাবাজীটি কে আগুবাবু? এর কথাই কি একদিন বলতে গিয়ে হঠাৎ চেপে গিয়েছিলেন ? আশুবাবু বলিলেন, হুঁ ৷ কিন্তু আজ আর বলতে অন্ততঃ আপনাকে বাধা নেই। অজিতকুমার আমার ভাবী জামাই, মণির বর। এই দুজনের ভালবাসা পৃথিবীর একটা অপূৰ্ব্ব বস্তু। ছেলেটি রত্ন। অবিনাশ স্থির হইয৷ শুনিতে লাগিলেন ; আশুবাবু পুনশ্চ কহিলেন, আমরা ব্রাহ্ম-সমাজের নই, হিন্দু। সমস্ত ক্রিয়াকৰ্ম্ম হিন্দুমতেই হয়। যথাসময়ে, অর্থাৎ বছর-চারেক পূৰ্ব্বেই এদের বিবাহ হয়ে যাবার কথা ছিল, হ’তও তাই, কিন্তু হ’ল না । যেমন করে এদের পরিচয় ঘটে, সেও এক বিচিত্র ব্যাপার—বিধিলিপি বললেও অত্যুক্তি হয় না। কিন্তু সে-কথা এখন থাক্ । অবিনাশ তেমনি স্তব্ধ হইয়া রছিলেন ; আগুবাবু বলিলেন, মণির গায়ে-হলুদ হয়ে গেল, রাত্রির গাড়িতে কাশী থেকে ছোটখুড়ে এসে উপস্থিত হলেন। বাবার মৃত্যুর পরে তিনি বাড়ির কৰ্ত্তা, ছেলে-পুলে নেই, খুড়িমাকে নিয়ে বহুদিন যাবৎ কাশীবাসী । জ্যোতিষে অখণ্ড বিশ্বাস, এসে বললেন, এ বিবাহ এখন হতেই পারে না । তিনি মিজে এবং অস্তান্ত পণ্ডিতকে দিয়ে নির্ভুল গণনা করিয়ে দেখেচেন যে, এখন বিবাহ হলে তিন বৎসর তিন মাসের মধ্যেই মণি বিধবা হবে। WQę