প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৪০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ইংরাজীতে যাহাকে ethics বলে, তাহার একটা গোড়ার কথা এই যে, বিসদৃশ হেতু না থাকিলে আমার স্বাধীনতাটা কেবল ততদুর পর্য্যন্ত টানিয়া লইয়া যাইতে পারি যতক্ষণ না তাহা অার একজনের তুল্য স্বাধীনতায় আঘাত করে। এই দুটো কথার দ্বারা মামুষের প্রায় সমস্ত কাজ নিয়ন্ত্রিত করা যাইতে পারে, এবং আমার বিশ্বাস, যে-কোন সামাজিক প্রশ্নের স্থানও ইহারই মধ্যে সস্কুলান হয় । ইহাকে যে সমাজ যত বেশি অগ্রাহ করিয়া চলিয়াছে, সে তত বেশি নারীর উপর অন্যায় করিয়াছে এবং তাহার প্রাপ্য অংশ হইতে তাহাকে বঞ্চিত করিয়া নারীকেও নত কৃরিয়াছে, নিজেরাও অবনত হইয়াছে। একটা দৃষ্টান্ত দিয়া বলি। একটি কন্যা হয়ত রুগ্ন, দুৰ্ব্বল, অশিক্ষিতা এবং অপটু, তত্ৰাচ একটা বিশেষ বয়সে তাহার বিবাহ দিতে হইবে, অর্থাৎ মাতৃত্বের গুরুভার তাহাকে মাথায় তুলিতেই হইবে ; অথচ আর একটি বিধবা মেয়ে হয়ত সবল সুস্থ, শিক্ষিতা এবং মাতৃত্বের সম্পূর্ণ উপযোগিনী—আদর্শ জননীর সমস্ত সদগুণে হয়ত ভগবান তাহাকে ভূষিত করিয়াছেন, তবুও তাঁহাকে তাহার স্বাভাবিক স্তায়সঙ্গত অধিকার হইতে বঞ্চিত করিতে হইবে। ইহাতে শাস্ত্রকারের মর্য্যাদা যদি-বা বজায় থাকে, ধৰ্ম্মের মর্য্যাদা যে বজায় থাকে না, তাহ নিঃসংশয়ে বলিতে পারা যায়। প্রথমটাতেও না, পূরেরটাতেও না । সুসভ্য মানবের সুস্থ সংযত শুভ-বুদ্ধি যে অধিকার রমণীজাতিকে সমর্পণ করিতে বলে, তাহাই মানবের সামাজিক নীতি এবং তাহাতেই সমাজের কল্যাণ হয়। কোন একটা জাতির ধৰ্ম্মপুস্তকে কি আছে না আছে, তাহাতে হয় না । নারীর মূল্য বলিতে আমি এই নীতি ও অধিকারের কথাই এতদূর পর্য্যন্ত বলিয়া আসিয়াছি। Supply or demand-ao Toss of নাই, কবে পুরুষ বাড়িয়া উঠিবে, কবে নারী বিরল হইবে, সে আশাও করি নাই। নারীর মূল্য নির্ভর করে পুরুষের স্নেহ, সহানুভূতি ও স্কায়-ধৰ্ম্মের উপরে। ভগবান তাহাকে দুৰ্ব্বল করিয়াই গড়িয়াছেন, বলের সেই অভাবটুকু পুরুষ এইসমস্ত বৃত্তির মুখের দিকে চাহিয়াই সম্পূর্ণ করিয়া দিতে পারে, ধৰ্ম্মপুস্তকের খুটিনাটি ও অবোধ্য অর্থের সাহায্যে পারে না। ইহার উজ্জল দৃষ্টান্ত জাপান। সে কেবল তাহার নারীর স্থান উন্নত করিতে পারিয়াছে সেইদিন হইতে যেদিন হইতে সে তাহার সামাজিক রীতি-নীতির ভালো-মনর বিচার ধর্মের এবং ধৰ্ম্ম-ব্যবসায়ীর স্বাচড়-কামড়ের বাহিরে আনিয়া ফেলিয়াছে। কিছুদিন পূৰ্ব্বেও সেখানে চীনাদের মত নারীর দুর্দশার সীমা-পরিসীমা ছিল না। শুধু ইউরোপ Two ‘the clergy have been the worst enemies of women, \లిసిశ్చి,