প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৪১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ এতটুকু সাড়া নাই। দেশের মাঝখানে বসিয়াও তাহার দরজা-জানাল ভয় ও মিথ্যার অর্গলে আজ এমনি অবরুদ্ধ যে, দেশ-জোড় এতবড় দীপ্তির রশ্মিকণাটুকুও তাছাতে প্রবেশ করিবার পথ পায় নাই। কিন্তু কোন দেশে এমন ঘটতে পারিত ? আজ মাতৃভূমির মহাযজ্ঞে বুকের রক্ত যাহার এমনি করিয়া ঢালিয়া দিতেছেন, কোন দেশের নাট্যশালা হইতে র্তাহীদের নাম পৰ্য্যন্ত আজ এমন করিয়া বারিত হইতে পারিত ? অথচ সমস্তই দেশেরই কল্যাণের নিমিত্ত। দেশের কল্যাণের জন্যই আজ দেশের নাট্যকারগণের কলমের গাটে গাটে আইনের ফাস বাধা । এবং এমন কথাও আজ সত্য বলিয়া গ্রহণ করিতে হইতেছে যে, দেশের কবি, দেশের নাট্যকারগণের অন্তর ভেদিয়া যে বাক্য যে সঙ্গীত বাহির হইয়া আসে, দেশের তাহাতে কল্যাণ নাই, শাস্তি নাই। বিদেশী রাজপুরুষের মুখ হইতে এ-কথাও আজ আমাদের মানিয়া চলিতে হইতেছে। কিন্তু এই নিৰ্ব্বিচারে মানিয়া চলার লাভ-লোকসানের হিসাব-নিকাশের আজ সময় আসিয়াছে। এবং ইহা কি শুধু এক আমাদেরই ক্ষুদ্র করিয়া রাখিয়াছে ? যে ইহা চালাইতেছে সে ছোট হয় নাই ? আমরা দুঃখ পাইতেছি, কিন্তু মিথ্যাকে সত্য করিয়া দেখাইবার দু:খ-ভোগ সে-ই কি চিরদিন এড়াইয়া যাইবে ? ঋণপরিশোধের দুঃখ আছে,—আজ আমাদের ডাক পড়িয়াছে, কিন্তু দেন শোধ করিবার তলব যেদিন তাহারও ভাগ্যে আসিবে, সেদিন তাহারই কি মুখে হাসি ধরিবে না ! ব্যাপারটা কাগজে-কলমে লোকের চোখে কি ঠেকিতেছে ঠিক জানি না। হয়ত এই বাঙলাদেশেই এমন মানুষও আছেন যাহাঁদের কাছে আগাগোড়া তুচ্ছ মনে হওয়াও বিচিত্র নয় ; এবং যদি তাই হয়, তবুও আরও এমনি একটা তুচ্ছ ঘটনার উল্লেখ করিয়াই এ প্রসঙ্গ এবারের মত বন্ধ করিব। সেদিন University Instituteএ ছেলেদের মধ্যে কবিতা আবৃত্তির একটা প্রতিযোগিতার পরীক্ষা ছিল। সৰ্ব্বদেশে পূজিত কবিবর ত্রযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এবার ফিরাও মোরে” শীর্ষক কবিতাটি নির্বাচিত করা হইয়াছিল। যাহারা পরীক্ষণ দিবে, তাহদেরই একজন আমার কাছে দুই-একটা কথা জানিয়া লইতে আসিয়াছিল। তাহারই কাছে দেখিয়া অবাকৃ হইয়া গেলাম যে, এই, সুদীর্ঘ কবিতাটির যাহা সৰ্ব্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ,—এই দুর্ভাগা দেশের দুর্দশার কাহিনী যেখায় বিবৃত—সেই অংশগুলিই বাছিয়া বাছিয়া বাদ দেওয়া হইয়াছে। জিজ্ঞাসা করিলাম, এ কুকাৰ্য্য কে করিল ? ছেলেটি কহিল, আজ্ঞে, নিৰ্ব্বাচনের ভার র্যাহাদের উপর ছিল তাহারা। মনে করিলাম, রত্ন ইহার চিনেন না, তাই, এও বুঝি সেই ছোবড়া-অঁটির ব্যাপার হইয়াছে। কিন্তু ছেলেটি দেখিলাম সব জানে, সে আমার ভুল ভাঙ্গিয়া দিল । 8 თხz