প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৪২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপ্রকাশিত রচনাবলী তার উপর কি নির্দয়ভাবে পড়ে বিদ্রুপ করতে থাকে। দাড়কাকের হাহাকার শুনতে গুনতে দিনশেষে সে ডালের নীচে এলিয়ে পড়ে ! আমি ফুল নই। তাই এলিয়ে পড়লুম না। ঝরে পড়লে ত সব চুকেই যেত। খুব গরীবের ঘরে আমার জন্ম হয়নি। বাবা এমন ডাকসাইটে বড়লোকও কিছু ছিলেন না । কিন্তু কাল হ’ল আমার পোড়া রূপ । . শুনতে পাই—আমার দুধে-রঙে আলতার আভা ছিল। কালো চুল পা অবধি লুটিয়ে পড়ত। আরো কত-কি। এ-সব আমার শোনা কথা । সত্যি-মিথ্যে ভগবান জানেন । তোমরা কি তার পরিচয় কিছু পাচ্ছ ? কি দেখছ ? না, না—ও রং নয়—আমার ঠোট অমনিতরই। এটা ? টিপ নয়—এটা একটা তিল । ওটা জন্ম থেকেই আছে। তাই দেখেই ত সন্ন্যাসী মিন্‌সে বলেছিল যে, আমি হবে! রাজরাণী । আহ ! যদি না বলত! মিন্‌সে যা বললে তাই হ’ল গা ! আহা, যদি না সেদিন সকালে সাজি-হাতে বেরুতাম ! গঙ্গাজলে কি শিব-পুজে হয় না ? মা’র ছিল সবতাতেই যেন বাড়াবাড়ি। ফুল তার চাই-ই, নইলে শিব-পুজে হবে না। আর তিনিই বা জানবেন কি করে? আর রাজারই বা কি আক্কেল ! দুনিয়ায় এত পথ থাকতে—র্তার যাবার রাস্ত হ’ল সেই আমাদের পুকুরের ধারের সরু গলিট দিয়ে ! শুনলাম, রাজা আসছেন। রাজা আসছেন, হা করে রাজা দেখছি । মনে করলাম, বুঝি-বা তার চারটে হাত দেখব। হায় রে, তখন যদি ছুটু মেরে বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়ি ! রাজা ত বাপু কত লোক দেখেছিল। কপাল ত আর কারুর ধরল না । সেদিন থেকে লোকের হালি সইতে পারিনে। মনে হয়, ওই ছালির নীচে যেন ছুরির বাকা ধারটা বিকৃঝিক করছে । রাজা হেসে বললেন, “মা, কি তোমার নাম ?”--আমি ত লজ্জায় মরে গেলাম। ঘাড় গুজে দাড়িয়ে ধা-পায়ের বুড়ে আঙ্গুল দিয়ে মাটি খুড়তে লাগলাম। নাম সমে এল না। কানের মধ্যে বৰ্ণ-বৰ্ণ করতে লাগল। নাকের উপর বিলুকি বিন্‌কি ঘাম দেখা দিলে । סג8