প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৪২৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ . কেবল ন’ বিভূতিরতন ধনী খণ্ডরের কৃপায় কলিকাতায় থাকিয় কোন একটা বড় সওদাগরী অফিসে বড় কাজ পাইয়াছিলেন । মেজ এবং ছোট ভাই শিশুকালেই মারা পড়িয়াছিল, তালিকায় ওই দুটা শূন্তস্থান ব্যতীত আর তাঁহাদের কিছুই फाव*िठे हिल नीं । দিন-দুই হইল দুর্গাপূজা শেষ হইয়া গেছে ; প্রতিমার কাঠামোটা উঠানের একধারে আড়াল করিয়া রাখা হইয়াছে,—সহসা চোখ না পড়ে ; কেবল র্তাহার মঙ্গলঘটটী অজিও বেদীর পাশ্বে তেমনি বসানো আছে। তাহার অস্ত্রিপল্লব আজিও তেমনি স্নিগ্ধ, তেমনি সজীব রহিয়াছে,—এখনও একবিন্দু মলিনতা কোথাও ম্পর্শ করে নাই । সকালে ইহারই অদূরে একটা বড় সতরঞ্চের উপর বসিয়া তিন ভাইয়ের মধ্যে বোধ হয় খরচপত্রের আলোচনাটাই এইমাত্র শেষ হইয়া একটু বিরাম পড়িয়াছিল, বিভূতিরতন একটু ইতস্তত: করিয়া একটু সঙ্কোচের সহিত মুখখান হাসির মত করিয়া কহিল, সেদিন শাশুড়ী-ঠাকরুণ আশ্চৰ্য্য হয়ে বলছিলেন, তোমার মাইনের সমস্ত টাকাটা এক-দফা বাড়িতে দাদার কাছে পাঠিয়ে দিতে হয়। তিনি আবার দরকার-মত কিছু নিয়ে বাকীটা ফিরে পাঠিয়ে-দেন, এতে মাসে মাসে অনেকগুলো টাকা পোষ্ট্রাফিসকে দিতে হয়। সংসার-খরচের খাতাখানা তখনও শিবরতনের সম্মুখে খোলা ছিল,—এবং চক্ষুও তাহার তাহাতেই আবদ্ধ ছিল, অনেকটা অন্যমনস্কের মত বলিলেন, পোষ্ট্রাফিস মনিঅর্ডারের টাকা ছাড়বে কেন হে ? এতে আশ্চৰ্য্য হবার কি আছে ? বিভূতির ধনী শ্বশ্ৰঠাকুরাণীর যে কিছুদিন হইতেই কন্যা-জামাতার সাংসারিক উন্নতির প্রতি দৃষ্টি পড়িয়ছে, এ সংশয় শিবরতনের জন্মিয়াছিল। কিন্তু কণ্ঠস্বরে কিছুই প্রকাশ পাইল না । বিভূতি মনে করিল, দাদা ঠিকমত কথাটাতে কান দেন নাই, তাই আরও একটু স্পষ্ট করিয়া কহিল, আজ্ঞে হা, তা ত বটেই। তাই তিনি বলেন, আপনার অবিশুক-মত টাকাটাই যদি শুধু— শিবরতন চোখ তুলিয়া চাহিলেন ; বলিলেন, আমার আবশ্বক তোমরা জানবে কি করে ? র্তাহার মুখের উপর তেমনি সহজ ও শান্ত ভাব দেখিয়া বিভূতির সাহস বাড়িল, সে প্রফুল্প হইয়া কহিল, আজ্ঞে হুঁ, তাই তিনি বলছিলেন, আপনার চিঠিপত্রের মধ্যে তার একটুখানি আভাস থাকলেও এই বাজে-খরচটা আর হতে পারত না। 8>や