প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কথাটা অক্ষয়ের সত্য, তাই সবাই মৌন হইয়া রহিলেন। আগুবাবু এতক্ষণ পৰ্য্যস্ত কিছুই বলেন নাই। সবই তাহার কানে যাইতেছিল, কিন্তু নিজের খেয়ালেই ছিলেন। হঠাৎ এই স্তব্ধতায় তাহার ধ্যান ভাঙিল। ধীরে ধীরে বলিলেন, বিবাহটা নয়, এর formটার প্রতিই বোধ হয় কমলের তেমন আস্থা নেই। মনুষ্ঠান যা হোক কিছু একটা হলেই ওর হ’লে । স্বামীকে বললে, ওরা যে বলে বিয়েটা হ’লে ফাকি । স্বামী বললেন, বিবাহ হ’লে আমাদের শৈব মতে । কমল তাই গুনে খুশি হয়ে বললে, শিবের সঙ্গে বিয়ে যদি হয়ে থাকে, আমার শৈব মতে ত সেই ভাল। কথাটি আমার কি যে মিষ্ট লাগলে অবিনাশবাবু! ভিতরে ভিতরে অবিনাশের মনটিও ছিল ঠিক এই সুরে বাধা, কহিলেন, আর সেই শিবনাথের মুখের পানে চেয়ে হাশিমুখে জিজ্ঞেস করা—হঁ গা, করবে না কি তুমি এইরকম ? দেবে না কি আমাকে ফাকি ? কত কথাই ত তার পরে হয়ে গেল আশুবাবু, কিন্তু এর রেশটুকু যেন আমার কানের মধ্যে এখনও বাজচে । প্রত্যুত্তরে আগুবাবু হাসিয়া একটু মাথা নাড়িলেন। • অবিনাশ বলিলেন, আর ওই শিবানী নামটুকু ? এই কি কম মিষ্টি আগুবাবু ? অক্ষয় আর যেন সহিতে পারিলেন না, বলিলেন, আপনারা অবাক করলেন অবিনাশবাবু। তাদের যা-কিছু সমস্তই মিষ্টি মধুর। এমন কি শিবনাথের নিজের নামের সঙ্গে একটা ‘নী যোগ করাতেও মধু ঝরে পড়লো ? হরেন্দ্ৰ কহিল, শুধু ‘নী যোগ করাতেই হয় না অক্ষয়বাবু। আপনার স্ত্রীকে অক্ষয়নী বলে ডাকলেই কি মধু ঝরবে ? তাহার কথা শুনিয়া সকলেই হাসিয়া উঠিলেন। এমন কি মনোরমাও পথের একধারে মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিল। অক্ষয় ক্রোধে ক্ষিপ্ত হইয়া উঠিলেন। গর্জন করিয়া কহিলেন, হরেনবাবু, don't you go too far. কোন ভদ্রমহিলার সঙ্গে এ-সকল স্ত্রীলোকের ইঙ্গিতে তুলনা করাকেও আমি অত্যন্ত অপমানকর মনে করি, আপনাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলাম। হরেন্দ্র চুপ করিয়া রহিল। তর্ক করাও তাহার স্বভাব নয়, নিজের কথা যুক্তি দিয়া সপ্রমাণ করাও তাহার অভ্যাস নয়। মাঝে হইতে হঠাৎ কিছু একটা বলিয়াই এমনি নীরব হইয়া থাকে যে, সহস্ৰ খোঁচাখুচিতেও মুখ দিয়া তাহার কথা বাহির করা যায় ন। হইলও তাই। অক্ষয় বাকী পূখটা শিবানীকে ছাড়িয়া হরেন্দ্রকে লইয়া পড়িল । সে ষে ভদ্রমহিলাকে ভদ্রতাহীন কদৰ্য্য পরিহাস করিয়াছে এবং শিবনাথের শৈব-মতে বিবাহ করা স্ত্রীর বাক্যে ও ব্যবহারে যে আভিজাত্যের বাষ্পও নাই, বরঞ্চ শিক্ষা ও 89