প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


C적 하 সংস্কার জঘন্ত হীনতারই পরিচায়ক, ইহাই অত্যন্ত রূঢ়তার সহিত বারংবার প্রতিপন্ন করিতে করিতে গাড়ী আগুবাবুর দরজায় আসিয়া থামিল। অবিনাশ ও অন্তান্ত সকলে নামিয়া গেল, হরেন্দ্র-অক্ষয়কে পৌছাইয়া দিতে গাড়ী চলিয়া গেল। আশুবাবু উদ্বিগ্ন হইয়া কহিলেন, গাড়ীর মধ্যে এর মারামারি না করেন। অবিনাশ বলিলেন, সে ভয় নেই। এ প্রতিদিনের ব্যাপার, কিন্তু তাতে ওঁদের বন্ধুত্ব ক্ষুণ্ণ হয় না। ঘরের মধ্যে চা থাইতে বসিয়া আগুবাবু আস্তে আস্তে বলিলেন, অক্ষয়বাবুর প্রকৃতিটা বড় কঠিন। ইহার চেয়ে কঠিন কথা তাহার মুখে আসিত না । সহসা মেয়ের প্রতি চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, আচ্ছা মণি, কমলের সম্বন্ধে তোমার পূর্বের ধারণা কি আজ বদলায়নি ? কিসের ধারণ বাবা ? এই যেমন—এই যেমন— কিন্তু আমার ধারণা নিয়ে তোমাদের কি হবে বাবা ? পিতা দ্বিরুক্তি করিলেন না। তিনি জনিতেন এই মেয়েটার বিরুদ্ধে মনোরমার চিত্ত অতিশয় বিমুখ। ইহা তাহাকে পীড়া দিত, কিন্তু এ লইয়া নুতন করিয়া আলোচনা করিতে যাওয়া যেমন অপ্রীতিকর তেমনি নিস্ফল । অকস্মাৎ অবিনাশ বলিয়া উঠিলেন, কিন্তু একটা বিষয়ে আপনার বোধ হয় তেমন কান দেননি। সে শিবনাথের শেষ কথাটা । কমলের সবটুকুই যদি অপরের প্রতিধ্বনিমাত্রই হ’তে ত একথা শিবনাথের বলার প্রয়োজন হ’তো না যে, সে যেন আপনাকে শ্রদ্ধা করতে শেখে। এই বলিয়া সে নিজেও গভীর শ্রদ্ধাভরে আশুবাবুর মুখের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া কহিল, বাস্তবিক, বলতে কি, আপনার মত ভক্তির পাত্রই বা সংসারে ক'জন আছে ? এতটুকু সামান্ত পরিচয়েই যে শিবনাথ এতবড় সত্যটা হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেচে, কেবল এরই জন্য আমি তার বন্ধ অপরাধ ক্ষমা করতে পারি আপ্তবাবু। শুনিয়া আগুবাবু ব্যস্ত হইয়া উঠিলেন। তাহার বিপুল কলেবর লজ্জায় যেন সঙ্কুচিত হইয়া উঠিল। মনোরমা কৃতজ্ঞতায় দুই চক্ষু পূর্ণ করিয়া বক্তার মুখের প্রতি মুখ তুলিয়া বলিল, অবিনাশবাবু, এইখানেই তার সঙ্গে তার স্ত্রীর সত্যকার প্রভেদ । আজ জানি, সেদিন কাপড় এবং সাবান চাওয়ার ছলে এই মেয়েটি আমাকে শুধু উপহাস করেই গিয়েছিল—তার সেইদিনকার অভিনয় আমি বুঝতে পারিনি, কিন্তু সমস্ত ছলাকল সমস্ত বিজুপই ব্যর্থ বাবা, তোমাকে যদি না সে আজ সকলের বড় বলে চিনতে পেরে থাকে। 8%