প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রই মনোরমা কহিল, তাকে কি সমাজের মধ্যে ডেকে জানতে চাও বাবা ? আপ্তবাবু বলিলেন, আমি চাইলেই হবে কেন মা ? সমাজের অক্ষয়-বাবুও ত আছেন, তারাই ত প্রবল পক্ষ ? মেয়ে জিজ্ঞাসা করিল, তুমি একলা হলে ডেকে আনতে বোধ হয় ? ( পিতা তাহার স্পষ্ট জবাব দিলেন না, কহিলেন, ডাকতে গেলেই কি সবাই আসে মা ? অজিত বলিল, আশ্চর্ধ্য এই যে, আপনার মতের সঙ্গেই র্তার সবচেয়ে বিরোধ, অথচ আপনারই স্নেহ পেয়েচেন তিনি সবচেযে বেশি। অবিনাশ বলিলেন, তার কারণ আছে অজিতবাবু। কমলের আমরা কিছুই জানিনে, জানি শুধু তার বিপ্লবের মতটাকে। আর জানি তার অখণ্ড মন্দ দিকটাকে। তাই তার কথা শুনলে আমাদের ভয়ও হয়, রাগও হয়। ভাবি, এইবার গেল বুঝি সব। আগুবাবুকে উদ্দেশ করিয়া কহিলেন, ওঁর নিষ্পাপ দেহ, নিষ্কলুষ মন, সন্দেহের ছায়াও পড়ে না, ভয়েরও দাগ লাগে না । মহাদেবের ভাগ্যে বিযই বা কি, আর অমৃতই বা কি, গলাতেই আটকাবে, উদরন্থ হবে না। দেবতার দলই আমুক, আর দৈত্য-দানাতেই ঘিরে ধরুক, নির্লিপ্ত নিৰ্ব্বকার চিত্ত, শুধু বাতে কাবু না করলেই উনি খুশি । কিন্তু আমাদের ত— কথা শেষ হইল না, আশুবাবু অকস্মাৎ দুই হাত তুলিয় তাহাকে থামাইয়া দিয়া কহিলেন, আর দ্বিতীয় কথাটি উচ্চারণ করবেন না অবিনাশবাবু আপনার পায়ে পড়ি। নিরবিচ্ছিন্ন একটি যুগ বিলেতে কাটিয়ে এসেচি, সেখানে কি করেচি, না করেচি নিজেরই মনে নেই, অক্ষয়ের কানে গেলে আর রক্ষে থাকবে না। একেবারে নাড়ীনক্ষত্র টেনে বার করে আনবে। তখন ? অবিনাশ সবিস্ময়ে কহিলেন, আপনি কি বিলেত গিয়েছিলেন নাকি ? আগুবাবু বলিলেন, ই, সে দুষ্কাৰ্য্য হয়ে গেছে। মনোরমা কহিল, ছেলেবেলা থেকে বাবার সমস্ত এডুকেশনটাই হয়েচে ইয়োরোপে। বাবা ব্যারিঞ্জার। বাবা ডক্টর। অবিনাশ কহিলেন, বলেন কি ? . আগুবাবু তেমনিভাবেই বলিয়া উঠিলেন, ভয় নেই, ভয় নেই প্রফেসর, সমস্ত ভুলে গেছি। দীর্ঘকাল যাযাবরবৃত্তি অবলম্বন করে মেয়ে নিয়ে এখানে সেখানে টোল ফেলে বেড়াই, ঐ যা বললেন সমস্ত চিত্ততলটা একেবারে ধুয়ে-মুছে নিষ্পাপ নিষ্কলুষ হয়ে Çe