প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শের প্রশ্ন আপনার কত সঙ্কোচই না হয়েছিল, আমিও যদি সেই ভয়েই পেছিয়ে যেতাম এমন আনন্দটি ত অদৃষ্টে ঘটত না। - অজিত কহিল, কিন্তু শেষ পর্য্যন্ত না দেখে নিশ্চয় করে ত কিছুই বলা যায় না। ফিরে গিয়ে আনন্দের পরিবর্তে নিরানন্দও ত অদৃষ্টে লেখা থাকতে পারে! ബ কমল কহিল, এই অন্ধকার নির্জন পথে একলা আপনার পাশে বসে উৰ্দ্ধশ্বাসে কত দূরেই না বেড়িয়ে এলাম। আজ আমার কি ভালই যে লাগচে তা আর বলতে পারিনে । 轟 অজিত বুঝিল কমল তাহার কথায় কান দেয় নাই –সে যেন নিজের কথা নিজেকেই বলিয়া চলিয়াছে। শুনিয়া লজ্জা পাইবার মত হয়ত সত্যই ইহাতে কিছুই নাই, তবুও প্রথমটা সে যেন সঙ্কুচিত হইয়া উঠিল। ওই মেয়েটির সম্বন্ধে বিরুদ্ধ কল্পনা ও অশুভ জনশ্রুতির অতিরিক্ত বোধ হয় কেহই কিছু জানে না—যাহা জানে তাহারও হয়ত অনেকখানি মিথ্যা, এবং সত্য যাহা আছে তাহাতেও হয়ত অসত্যের ছায় এমনি ঘোরালো হইয়া পড়িয়াছে যে, চিনিয়া লইবার পথ নাই। ইচ্ছা করিলে যাচাই করিয়া যাহার দিতে পারে, তাহার দেয় না, যেন সমস্তটাই তাহীদের কাছে একেবারে নিছক অর্থহীন । অজিত চুপ করিয়া আছে, ইহাতেই কমলের যেন চেতন হইল। কহিল, ভাল কথা, কি বলছিলেন ফিরে গিয়ে আনন্দের বদলে নিরানন্দ অদৃষ্ট্রে লেখা থাকতে পারে ? পারে বই কি ! অজিত কহিল, তা হলে ? কমল বলিল, তা হলেও এ প্রমাণ হয় না, যে-আনন্দ আজ পেলাম তা পাইনি ! এবার অজিত হাসিল । বলিল, সে প্রমাণ হয় না, কিন্তু এ প্রমাণ হয় যে আপনি তার্কিক কম নয় । আপনার সঙ্গে কথায় পেরে ওঠা ভার। অর্থাৎ যাকে বলে কুট-তার্কিক তাই আমি ? অজিত কহিল, না, তা নয়, কিন্তু শেষ ফল যার দুঃখেই শেষ হয় তার গোড়ার দিকে যত আনন্দই থাক, তাকে সত্যকার আনন্দ-ভোগ বলা চলে না। এ ত আপনি নিশ্চয়ই মানেন ? কমল বলিল, না, আমি মানিনে। আমি মানি, যখন যেটুকু পাই তাকেই যেন সত্যি বলে মেনে নিতে পারি। দুঃখের দাহ যেন আমার বিগত-মুখের শিশিরবিন্দু ওলিকে শুষে ফেলতে না পারে। সে যত অল্পই হোক, পরিণাম তার যত তুচ্ছই সংসারে গণ্য হোক, তবুও যেন না তাকে অস্বীকার করি। একদিনের আনন্দ যেন না 4? 壟