প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্ৰই অজিত বার-কয়েক ইতস্তত: করিয়া কহিল, যদি অপরাধ না নেন ত একটা কথা জিজ্ঞাস করে যাই। শিবনাথবাবু কতদিন হ’ল আসেননি ? হ’ল অনেকদিন। বলিয়। সে হাসিল । অজিত তাহার লণ্ঠনের আলোকে স্পষ্ট দেখিতে পাইল এ হাসির জাতই আলাদা। তাহার পূৰ্ব্বেকার হাসির সহিত কোথাও ইহার কোন অংশেই সাদৃশু নাই। お অজিত যখন বাড়ি ফিরিল তখন গভীর রাত্রি। পথ নীরব, দোকান-পাট বন্ধ, কোথাও মামুষের চিহ্নমাত্র নাই। ঘড়ি খুলিয়া দেখিল তাহা দমের অভাবে আটটা বাজিয়া বন্ধ হইয়াছে। এখন হয়ত একটা, না-হয় ত দুইটা—ঠিক যে কত কোন আন্দাজ করিতে পারিল না । আগুবাবুর গৃহে এতক্ষণ যে একটা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার ব্যাপার চলিতেছে তাহ নিশ্চিত ; শোওয়ার কথা দুরে থাকৃ, হয়ত খাওয়া-দাওয়া পৰ্য্যন্ত বন্ধ হইয়া আছে। ফিরিয়া সে যে কি বলিবে ভাবিয়া পাইল না। সত্য ঘটনা বলা যায় না । কেন যায় না সে তর্ক নিষ্ফল, কিন্তু যায় না । বরঞ্চ মিথ্যা বলা যায় । কিন্তু মিথ্যা বলার অভ্যাস তাহার ছিল না, ন হইলে মোটরে একাকী বাহির হইয়৷ বিলম্বের কারণ উদ্ভাবন করিতে ভাবনা হয় না। গেট খোলা ছিল। দরওয়ান সেলাম করিয়া জানাইল যে সোফার নাই, সে তাহাকে খুজিতে বাহির হইয়াছে। গাড়ী আস্তাবলে রাখিয়া অজিত আগুবাবুর বসিবার ঘরে গিয়া প্রবেশ করিতেই দেখিল তিনি তখনও শুইতে যান নাই, অসুস্থ দেহ লইয়াও একাকী অপেক্ষা করিয়া আছেন। উদ্বেগে সোজা উঠিয়া বসিয়া বলিল্লেন, এই যে ! আমি বার বার বলচি, কি একটা এ্যাকৃসিডেন্ট হয়েচে । কতবার তোমাকে বলেচি, পথে-ঘাটে কখনো একলা বার হতে নেই। বুড়োর কথা খাটলো ত ? শিক্ষে হ’ল ত? অজিত সলজে একটুখানি হাসিয়া কহিল, আপনাদের এতখানি ভাবিয়ে তোলবার জন্য আমি অতিশয় দুঃখিত। \どo