প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৭৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন তা হলে খেয়ে শোও গে। রাত আর নেই। তুমি খাবে না ? না, বলিয়া অজিত জানাল হইতে সরিয়া গেল । বা৯ ! বেশ ত কথা ! ইহার অধিক কথা তাহার মুখে ফুটিল না। কিন্তু ভিতর হইতেও আর জবাব আসিল না। বাহিরে একাকী মনোরম স্তব্ধ হইয়৷ দাড়াইয়া রহিল। পীড়াপীড়ি করিয়া, রাগ করিয়া, নিজের জিদ বজায় রাখিতে তাহার জোড়া নাই—এখন কিলে যেন তাহার মুখ আঁটিয়া বন্ধ করিয়া রাখিল। অজিত রাত্রি শেষ করিয়া গৃহে ফিরিয়াছে, বাড়িমৃদ্ধ সকলের দুশ্চিন্তার অন্ত নাই—এতবড় অপরাধ করিয়াও সে-ই তাহাকে অপমানের একশেষ করিল, কিন্তু এতটুকু প্রতিবাদের ভাষাও তাহার মুখে আসিল না। এবং শুধু কেবল জিহ্বাই নিৰ্ব্বাকু নয়, সমস্ত দেহটাই যেন কিছুক্ষণের মত বিবশ হইয়া রহিল, জানালায় কেহ ফিরিয়া আসিল না, সে রছিল, কি গেল একটু জানারও কেহ প্রয়োজন বোধ করিল না । গম্ভীর নিশীথে এমনি নিঃশব্দে দাড়াইয়া মনোরম বহুক্ষণ পরে ধীরে ধীরে চলিয়া গেল । সকালেই বেহীরার মুখে আগুবাবু খবর পাইলেন কাল অজিত কিংবা মনোরম কেহই আহার করে নাই। চা খাইতে বসিয়া তিনি উৎকণ্ঠার সহিত জিজ্ঞাসা করিলেন, কাল তোমার নিশ্চয়ই ভয়ানক কিছু একটা এ্যাকৃসিডেন্ট ঘটেছিল, না ? অজিত বলিল, না । তবে নিশ্চয় হঠাৎ তেল ফুরিয়ে গিয়েছিল ? না, তেল যথেষ্ট ছিল । তবে এত দেরি হ’ল যে ? অজিত শুধু কহিল, এমনি। মনোরমা নিজে চা খায় না। সে পিতাকে চা তৈরী করিয়া দিয়া একবাটি চা ও খাবারের থালাটা অজিতের দিকে বাড়াইয়া দিল, কিন্তু প্রশ্নও করিল না, মুখ তুলিয়াও চাহিল না। উভয়ের এই ভাবান্তর পিতা লক্ষ্য করিলেন। আহার শেষ করিয়া অজিত স্নান করিতে গেলে তিনি কন্যাকে নিরালায় পাইয়া উদ্বিগ্ন-কণ্ঠে কহিলেন, না মা, এটা ভাল নয়। অজিতের সঙ্গে আমাদের সম্বন্ধ যত ঘনিষ্ঠই হোক, তবুও এ-বাড়িতে তিনি অতিথি। অতিথির যোগ্য মৰ্য্যাদা তাকে দেওয়া চাই। মনোরমা কহিল, দেওয়া চাইনে এ-কথাত আমি বলিনি বাবা ! না না, বলনি সত্যি, কিন্তু আমাদের আচরণে কোনরূপ বিরক্তি প্রকাশ পাওয়াও অপরাধ । や●