প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মনোরম বলিল, তা মানি। কিন্তু আমার আচরণে অপরাধ হয়েচে এ তুমি কার কাছে শুনলে ? আশুবাবু এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারিলেন না । তিনি শোনেননি কিছুই, জানেননি কিছুই, সমস্তই তাহার অনুমানমাত্র। তথাপি মন তাহার প্রসন্ন হইল না । কারণ এমনি করিয়া তর্ক করা যায়, কিন্তু উৎকষ্ঠিত পিতৃ-চিত্তকে নিঃশঙ্ক করা যায় না। খানিক পরে তিনি ধীরে ধীরে বলিলেন, অত রাত্রে অজিত আর খেতে চাইলেন না, আমিও শুতে গেলাম ; তুমি ত আগেই গুয়ে পড়েছিলে—কি জানি, কোথায় হয়ত আমাদের একটা অবহেলা প্রকাশ পেয়েচে । ওর মনটা আজ তেমন ভাল নেই । মনোরম বলিল, কেউ যদি সারা রাত পথে কাটাতে চায়, আমাদেরও কি তার জন্যে ঘরের মধ্যে জেগে কাটাতে হবে ? এই কি অতিথির প্রতি গৃহস্থের কৰ্ত্তব্য বাবা ? আণ্ডবাৰু হাসিলেন। নিজেকে ইঙ্গিতে দেখাইয়া বলিলেন, গৃহস্থ মানে যদি এই বেতে রুগীটি হয় মা, তা হলে তার কর্তব্য আটটার মধ্যেই গুয়ে পড়া । নইলে ঢের বড় সন্মানিত অতিথি বাত-ব্যাধির প্রতি অসন্মান দেথানে হয়। কিন্তু সে অর্থ যদি অন্য কাউকে বোঝায় ত তার কৰ্ত্তব্য নির্দেশ করবার আমি কেউ নয়। আজ অনেকদিনের একটা ঘটনা মনে পড়ল মণি । তোমার মা তখন বেঁচে । গুপ্তিপাড়ায় মাছ ধরতে গিয়ে আর ফিরতে পারলাম না। শুধু একটা রাত মাত্রই নয়, তবু একজন তাই নিয়ে গোট তিনটে রাত্রি জানালায় বসে কাটিয়ে দিলেন । তার কৰ্ত্তব্য কে নির্দেশ করেছিলেন তখন জিজ্ঞেস করা হয়নি, কিন্তু আর একদিন দেখা হলে এ-কথা জেনে নিতে ভুলবো না । এই বলিয়া তিনি ক্ষণকালের জন্ত মুখ ফিরাইয়া কন্যার দৃষ্টিপথ হইতে নিজের চোখ দুটিকে আড়াল করিয়া লইলেন। এ কাহিনী নুতন নয়। গল্পচ্ছলে এ ঘটনা বহুবার মেয়ের কাছে উল্লেখ করিয়াছেন ; কিন্তু তবু আর পুরাতন হয় না। যখনই মনে পড়ে তখনই নুতন হইয়া দেখা দেয় । ঝি আসিয়া দ্বারের কাছে দাড়াইল। মনোরম উঠিয়া পড়িয়া কহিল, বাবা, তুমি একটু ব’লে, আমি রান্নার যোগাড়টা করে দিয়ে আসি। এই বলিয়া সে তাড়াতাড়ি চলিয়া গেল। আলোচনাটা যে আর বেশি দূর গড়াইবার সময় পাইল না ইহাতে সে স্বস্তি বোধ করিল। j দিনের মধ্যে আপ্তবাবু কয়েকবার অজিতের খোজ করিয়া একবার জানিলেন সে বই পড়িতেছে, একবার খবর পাইলেন সে নিজের ঘরে বসিয়া চিঠিপত্র W:8 .