প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৮০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কমল কহিল, জানিনে বটে, কিন্তু আমার ভয় ছিল অত রাত্রে ফিরে গিয়ে হয়ত আপনি খাবেন না। তাই হয়েচে । আমার দোষেই কাল কষ্ট পেলেন। কিন্তু আজি মুদ-মৃদ্ধ আদায় হচ্চে। কথাটা বলিয়াই তাহার স্মরণ হইল কমল এখনও অভূক্ত। মনে মনে লজ্জা পাইয়া কহিল, কিন্তু আমি একেবারে জন্তুর মত স্বার্থপর। সারাদিন আপনি খাননি, অথচ সেদিকে আমার ছস নেই, দিব্যি থেতে বসে গেছি। কমল হাসিমুখে জবাব দিল, এ যে আমার নিজের খাওয়ার চেয়ে বড়, তাই ত তাড়াতাড়ি আপনাকে বসিয়ে দিয়েচি অজিতবাবু। এই বলিয়া সে একটু থামিয়া কহিল, আর এ-সব মাছ-মাংসের কাও আমি ত খাইনে । কিন্তু কি খাবেন আপনি ? ঐ যে । বলিয়া সে দূরে এনামেলের বাটিতে ঢাকা একটা বস্তু হাত দিয়া দেখাইয়া কহিল, ওর মধ্যে আমার চাল-ডাল আলু-সেদ্ধ হয়ে আছে। ঐ আমার রাজভোগ । এ-বিষয়ে অজিতের কৌতুহল নিবৃত্তি হইল না, কিন্তু তাহার সঙ্কোচে বাধিল । পাছে সে দারিদ্র্যের উল্লেখ করে, এই আশঙ্কায় সে অন্ত কথা পাড়িল। কহিল, আপনাকে দেখে প্রথম থেকেই আমার কি যে বিস্ময় লেগেছিল তা বলতে পারিনে । কমল হাসিয়া ফেলিয়া কহিল, সে ত আমার রূপ । কিন্তু সেও হার মেনেচে অক্ষয়বাবুর কাছে। তাকে পরাস্ত করতে পারেনি। অজিত লজ্জা পাইয়াও হাসিল, কহিল, বোধ হয় না। তিনি গোলকুণ্ডার মাণিক । তার গায়ে আঁচড় পড়ে না। কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময় লেগেছিল আপনার কথা শুনে। হঠাৎ যেন ধৈর্য্য থাকে না—রাগ হয় । মনে হয় কোন সত্যকেই আপনি আমল দিতে চান না । হাত বাড়িয়ে পথ আগলানোই যেন আপনার স্বভাব। কমল হয়ত ক্ষুণ্ণ হইল। বলিল, তা হবে। কিন্তু আমার চেয়েও বড় বিস্ময় সেখানে ছিল—সে আর একটা দিক। যেমন বিপুল দেহ, তেমনি বিরাট শান্তি ! ধৈৰ্য্যের যেন হিমগিরি। উত্তাপের বাষ্পও সেখানে পৌছায় না । ইচ্ছে হয় আমি যদি তার মেয়ে হ’তাম । কথাটি অজিতের অত্যন্ত ভাল লাগিল। আগুবাবুকে সে অস্তরের মধ্যে দেবতার স্থায় ভক্তি-শ্রদ্ধা করে। তথাপি কহিল, আপনাদের উভয়ের এমন বিপরীত প্রকৃতি মিলতো কি করে ? j কমল বলিল, তা জানিনে। আমার ইচ্ছের কথাই শুধু বললাম। মণির মত আমিও যদি তার মেয়ে হয়ে জন্মাতাম ! এই বলিয়া সে ক্ষণকাল নিবন্ধ থাকিয়া Քe