প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন আগুবাবু বড় ফিরাইয়া কমলের প্রতি চাছিলেন, কহিলেন, তোমার ত আর সমিতিতে নিমন্ত্রণ নেই, তুমি সেখানে যাবে না। আমিও বাতে কাবু। আমি না যাই, কিন্তু এ তোমাদেরই ভাল-মন্দর কথা । ই কমল, তোমার ত এ-প্রস্তাবে আপত্তি নেই ? অল্প সময় হইলে আজকের দিনটায় কমল নীরব হইয়াই থাকিত, কিন্তু একে তার মন খারাপ, তাহাতে এই লোকগুলার এই পৌরুষহীন সঙ্ঘবদ্ধ সান্ত প্রতিকূলতায় মনের মধ্যে যেন আগুন জলিয়া উঠিল। কিন্তু আপনাকে যথাসাধ্য সংবরণ করিয়া সে মুখ তুলিয়া হাসিয়া কহিল, কোনটা আগুবাবু? অমুকরণটা, না ভারতীয় বিশিষ্টতা ? আপ্তবাবু বলিলেন, ধরে যদি বলি দুটোই ? কমল কহিল, অনুকরণ জিনিসটা শুধু যখন বাইরের নকল তখন সে ফাকি । তখন আকৃতিতে মিললেও প্রকৃতিতে মেলে না। কিন্তু ভেতরে-বাইরে সে যদি এক হয়েই যায় তখন অমুকরণ বলে লজ্জা পাবার ত কিছু নেই। আপ্তবাবু মাথা নাড়িতে নাড়িতে বলিলেন, আছে বই কি কমল, আছে। ও-রকম সৰ্ব্বাঙ্গীণ অনুকরণে আমরা নিজের বিশেষত্ব হারাই । তার মানে আপনাকে নিঃশেষে হারানো । এর মধ্যে যদি দুঃখ এবং লজ্জা না থাকে ত কিসের মধ্যে আছে বলো ত ? কমল বলিল, গেলোই বা বিশেষত্ব আশুবাবু। ভারতের বৈশিষ্ট্য এবং যুরোপের বৈশিষ্ট্যে প্রভেদ আছে, কিন্তু কোন দেশের কোন বৈশিষ্ট্যের জন্তই মানুষ নয়, মানুষের জন্তই তার আদর। আসল কথা, বৰ্ত্তমানকালে সে বৈশিষ্ট্য তার কল্যাণকর কি-না। এ-ছাড়া সমস্তই শুধু অন্ধ মোহ । আপ্তবাবু ব্যথিত হইয়া কহিলেন, শুধুই অন্ধ মোহ কমল, তার বেশি নয় ? কমল বলিল, না, তার বেশি নয়। কোন একটা জাতের কোন একটি বিশেষত্ব বহুদিন চলে আলচে বলেই সে-ছাঁচে ঢেলে চিরদিন দেশের মানুষকে গড়ে তুলতে হবে তার অর্থ কই ? মামুষের চেয়ে মানুষের বিশেষত্বটাই বড় নয়। আর তাই যখন জুলি, বিশেষত্বও যায়, মানুষকেও হারাই। সেইখানেই সত্যিকার লজ্জা আপ্তবাবু। আণ্ডবাবু যেন হতবুদ্ধি হইয়া গেলেন, কছিলেন, তা হলে ত সমস্ত একাকার হয়ে যাবে? ভারতবর্ষীয় বলে ত আমাদের আর চেনাও যাবে না ? ইতিহাসে যে এমনতর घछेनांद्र जांचगै पञांग्रह ॥ to