প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৯৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন কি ক্ষতি হইত ? কিন্তু দুনিয়ার এই সহজ স্ববুদ্ধির জম-খরচের হিসাব বোধ করি কমলের মনে পড়ে নাই। যদি বা পড়িয়াছে গ্রাহ করে নাই । আর সবচেয়ে আশ্চৰ্য্য তাহার মুকঠিন ধৈর্য্য। দৈবক্রমে তারই মুখে সে প্রথম সংবাদ পাইল যে শিবনাথ কোথাও যায় নাই, এই সহরেই আত্মগোপন করিয়া আছে। শুনিয়া চুপ করিয়া রহিল। মুখের পরে না ফুটিল বেদনার আভাস, না আসিল অভিযোগের ভাষা। এতবড় মিথ্যাচারের সে কিছুমাত্র নালিশ পরের কাছে করিল না। সেদিন সম্রাটমহিষী মমতাজের স্মৃতি-সৌধের তীরে বসিয়া যে-কথা সে হাসিমুখে হাসিচ্ছলে উচ্চারণ করিয়াছিল তাহাই একেবারে অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করিল। আপ্তবাবু নিজেও বোধ হয় ক্ষণকালের জন্য বিমনা হইয়া পড়িয়াছিলেন, হঠাৎ সচেতন হইয়া পূৰ্ব্ব প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করিয়া কছিলেন, মজা দেখলে ত অজিত ? আমি নিশ্চয় বলচি এ ঐ শিবনাথ লোকটর কৌশল । অজিত কহিল, না-ও হতে পারে। না জেনে বলা যায় না । আপ্তবাবু বলিলেন, তা বটে। কিন্তু আমার বিশ্বাস এ চাল শিবনাথের। আমাকে সে বড়লোক বলে জানে। অজিত কহিল, এ-খবর ত সবাই জানে। কমল নিজেও না জানে তা নয়। আপ্তবাবু বলিলেন, তা হলে ত ঢের বেশি অন্যায়। স্বামীকে লুকানো ত ভাল কাজ নয় । অজিত চুপ করিয়া রহিল। আগুবাবু কহিতে লাগিলেন, স্বামীর অগোচরে, হয়ত র্তার মতের বিরুদ্ধে পরের কাছে টাকা ধার করতে যাওয়া স্ত্রীলোকের কত বড় অস্কায় বল ত ? এ কিছুতে প্রশ্রয় দেওয়া চলে না। অজিত কহিল, তিনি টাকা ত চাননি, শুধু জামিন হতে অনুরোধ করেছিলেন। আপ্তবাবু বলিলেন, সে ঐ একই কথা। ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া পুনশ্চ কছিলেন, আর ঐ আমাকে আত্মীয়-পরিচয়ে লোকটাকে ছলনা করাই বা কিসের জন্ত ? সত্যিই ত আমি তার আত্মীয় নই। অজিত বলিল, তিনি হয়ত আপনাকে সত্যিই আত্মীয় মনে করেন । বোধ হয় কাউকেই ছলনা করা তার স্বভাব নয় । না, কথাটা ঠিক ওভাবে আমি বলিনি অজিত। এই বলিয়া তিনি নিজের কাছেই যেন জবাবদিহি করিলেন। সেই লোকটাকে হঠাৎ ঝেণকের উপর বিদায় করা পৰ্য্যন্ত মনের মধ্যে র্তাহার ভারি একটা গ্লানি চলিতেছিল ; কহিলেন, সে আমাকে আত্মীয় বলেই যদি জানে, আর দু-পাঁচশো টাকার যদি দরকারই পড়েছিল, ԵrՏ