প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১০১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনী বেশ, আসবেন । সকলেই ধীরে ধীরে নিক্রাস্ত হইয়া গেলেন । বাহিরে আসিয়া তাহারা জমিদারের হাক শুনিতে পাইলেন, বেয়ারা— অনেকখানি পথ কেহই কাহারো সহিত বাক্যালাপ করিল না । অবশেষে শিরোমণি আর কৌতুহল দমন করিতে না পারিয়া রায়মহাশয়কে একপাশে একটু টানিয়া ফিস্ ফিস্ করিয়া কহিলেন, জনাদন, জমিদারকে তোমার কিরূপ মনে श्’८जीं डांब्री ? জনাৰ্দ্দন সংক্ষেপে বলিলেন, মনে ত অনেক রকমই হ’লো । মহাপাপিষ্ঠ–লজ-সরম আদৌ নেই। अl | কিন্তু দিব্যি সরল। মাতাল কি না ! দেখলে, দেনার দায়ে চুল পৰ্য্যস্ত বাধা, তাও বলে ফেললে । জনাৰ্দ্দন বলিলেন, ছ । শিরোমণি বলিলেন, কিছুই থাকবে না, সব ছারখার হয়ে যাবে, তুমি দেখে নিয়ো । জনাৰ্দ্দন বলিলেন, খুব সম্ভব । হয়ত বেশীদিন বঁiচবেও না । হতেও পারে । কিছুক্ষণ নীরবে পথ চলিয়া শিরোমণি পুনশ্চ বলিলেন, যা ভাবা গিয়েছিল, বোধ হয় ঠিক তা নয়—লেহাং হাবাগোব বলে মনে হয় না । কি বল ? জনাৰ্দ্দন শুধু জবাব দিলেন, না । কিন্তু বড় দুমুখ। মানীর মান-মৰ্য্যাদার জ্ঞান নেই! জনাৰ্দ্দন চুপ করিয়া রহিলেন । উত্তর না পাইয়াও শিরোমণি কছিলেন, কিন্তু দেখেচ ভায়া কথার ভঙ্গি—অৰ্দ্ধেক মানে বোঝাই যায় না । সত্য বলচে, না, আমাদের বাদর নাচাচ্চে, ঠাওর করাই শক্ত । জানে সব, কি বল ? রায়মহাশয় তথাপি কোন মন্তব্য প্রকাশ করিলেন না, তেমনি নীরবে পথ চলিতে লাগিলেন । কিন্তু বাটীর কাছাকাছি আসিয়া শিরোমণি আর কৌতুহল সংবরণ করিতে পারিলেন না, আস্তে আস্তে বলিলেন, ভায়াকে বড় বিমর্ষ দেখাচ্চে—বিশেষ সুবিধে হবে না বলেই যেন ভয় হচ্চে, না ? রাঞ্জমহাশয় যেন অনিচ্ছা-সত্ত্বেও একটু দাড়াইয়া কহিলেন, মায়ের অভিরুচি।