প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১১১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনা এই মূখ, এই কণ্ঠস্বর, একান্ত অবহেলা হঠাৎ জীবাননকেও তীক্ষ আঘাত করিল, এবং তাহার নিজের কণ্ঠস্বরও তপ্ত হইয়া উঠিল, কহিলেন, কিন্তু আমি হুকুম দিয়ে যাচ্চি, কালই এ-সব হতে হবে এবং হওয়াই চাই । জোর করে ? হ্যা, জোর করে । সুবিধে অসুবিধে যাই-হোক ? হ্যা, সুবিধে-অসুবিধে যাই-ই হোক । ষোড়শী আর কোন তর্ক করিল না । পিছনে চাহিয়া ভিড়ের মধ্যে একজনকে অঙ্কলি-সঙ্কেতে আহবান করিয়া কহিল, সাগর, তোমাদের সমস্ত ঠিক আছে ? সাগর সবিনয়ে কহিল, আছে মা, তোমার আণীৰ্ব্বাদে অভাব কিছুই নেই। ষোড়শী কহিল, বেশ। জমিদারের লোক কাল একটা হাঙ্গামা বাধাতে চায়, কিন্তু আমি তা চাইনে ; এই গাজনের সময়টা রক্তপাত হয় আমার ইচ্ছে নয়, কিন্তু দরকার হলে করতেই হবে। এই লোকগুলোকে তোরা দেখে রাখ ; এদের কেউ যেন আমার মন্দিরের ত্রিসীমানায় না আসতে পারে। হঠাৎ মারিসনে—শুধু গলাধাকা দিয়ে বার করে দিবি। এই বলিয়া সে আর দৃকপাত মাত্র না করিয়া মদপদে বারানা পার হইয়া গেল। ষোড়শীকে বিশ বছর ধরিয়া লোকে দেখিয়া আসিয়াছে, তাহাকে জানিবার যে কিছু বাকী আছে কেহ মনেও করে নাই । কিন্তু আজ তাহার প্রকৃতির এই অসাধারণ দিকটার প্রথম পরিচয় পাইয়া হুজুর হইতে পিয়াদা পৰ্য্যন্ত যেন পাথরের মূৰ্ত্তির মত স্তব্ধ হইয়া রহিল। సి.ఆ চৈত্রের সংক্রাপ্তি নিরুপদ্রবে কাটিয়া গেল—‘শিব-শভূ’র গাজন উৎসবে কোথাও কিছুমাত্র বিঘ্ন ঘটল না। দর্শকের দল ঘরে ফিরিল, দোকানীরা দোকান ভাঙ্গিতে প্রবৃত্ত হইল, বাতাসে তেলে-ভাজ খাবারের গন্ধ ফিকা হইয়া আসিল, এবং গেরুয়াধারীরাও চীৎকার ছাড়িয়া গৃহকৰ্ম্মে মন দিবার প্রয়োজন অনুভব করিল। চিরদিনের অভ্যস্ত সুরে চারিদিকের আবহাওয়ায় সুখ-দুঃখের আবার সেই পরিচিত স্রোত দেখ। দিল, কেবল চণ্ডীগঞ্জের ভৈরবীর দেহের মধ্যে কি যে রোগ প্রবেশ করিল, তাহার সে চেহারা আর ফিরিয়া আসিল না—কি এক প্রকার ভয়ে ভয়ে মন যেন তাহার অহৰ্নিশি চকিত হুইয়াই রহিল। উংসবের কয়ট দিন যেন নিৰ্ব্বিঘ্নে কাটাই সম্ভব এ আশা eve