প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনা তিনি মুখের মধ্যে গোটা-দুই লবঙ্গ ফেলিয়া দিয়া বলিলেন, দেখ এককড়ি, আমি বিবাহ করি নি—বোধ হয় কখনো করবও না । এককড়ি মৌন হুইয়া রহিল। তখন এই মদ্যপ ভূস্বামী একটা শুষ্কহাস্ত করিয়া কহিলেন, কিন্তু তাই বলে আমি ভীষ্মদেব—বলি মহাভারত পড়েচ ত? আর ভীষ্মদেব সেজেও বসিনি—শুকদেব হয়েও উঠিনি—বলি, কথাটা বুঝলে ত এককড়ি ? ওটা চাই । এককড়ি লজ্জায় মাথা হেঁট করিয়া একটুখানি ঘাড় নাডিল, মুখ ফুটিয়া জবাব দিতে পারিল না ; কিন্তু যে নির্লজ্জ উক্তিতে জমিদারের গোমস্তার পর্য্যস্ত লজ্জা বোধ হয়, এ কথা যিনি অবলীলাক্রমে উচ্চারণ করিলেন তিনি ইহা গ্রাহও করিলেন না, কহিলেন, অপর সকলের মত চাকরকে দিয়ে এ-সব কথা বলাতে আমি ভালবাসিনে, তাতে ঠকতে হয় । আচ্ছ। এখন যাও । আমার বেহারাদের খাওয়া-দাওয়ার যোগাড় করে দিয়ো ; ওরা তাড়িটা-আসটাও বোধ করি খায় । সেদিকেও একটু নজর রেখো । আচ্ছা যাও । এককড়ি মাথা নাড়িয়া সায় দিয়া আর এক দফা ভূমিষ্ঠ প্রণাম করিয়া বাহির হইয়া যাইতেছিল ; হুজুর হঠাৎ ডাকিয়া প্রশ্ন করিলেন, এ গায়ে দুষ্ট বজাত প্রজা কেউ আছে জানো ? এককড়ি ফিরিয়া দাড়াইল । এইখানে তাহার অনেকদিনের একট। পুরাতন ক্ষত ছিল—মনিবের প্রশ্নটা ঠিক সেইখানেই আঘাত করিল ; কিন্তু বেদনাটাকে সে একটা সংযমের আবরণ দিয়া নিরুংস্বক-কণ্ঠে কহিল, আজ্ঞে না, তা এমন কেউ—শুধু তারাদাস চক্কোভি-ত সে আবার হুজুরের প্রজা নয় । তারাদাসটা কে ? এককড়ি কহিল, গড়চণ্ডীর সেবায়েত । এই সেবায়েতদিগের সহিত জমিদারী-সংস্পর্শে এককড়ির অনেক কলহ-বিবাদ হইয়া গেছে, কিন্তু সেজন্য তাহার বিশেষ কোন ক্ষোভ ছিল না। কিন্তু বৎসর-দুই পূৰ্ব্বে একটা পাকা কঁঠাল গাছ লইয়া যে লড়াই বাধে, সে জালা তাহার যায় নাই । কারণ র্কাঠালের তক্তাগুলো ছিল তাহার নিজের বাটীর জন্য এবং সেই হেতু শেষ পৰ্যন্ত তাহাকেই নতি স্বীকার করিয়া গোপনে মিটমাট করিয়া লইতে छ्ग्न ! এককড়ি কহিতে লাগিল, কি করব হুজুর, সদরে আরজি করে মুবিচার পাইনে— দেওয়ানজী গেরাহিই করেন না, নইলে চক্কোত্তিকে টিটু করতে কতক্ষণ লাগে ! কিন্তু এও নিবেদন করচি, হুজুর আসকার দিলে ওরা প্রজা বিগড়ে দেবে—তখন গী শাসন করা ভার হবে।