প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


వరి সেদিন প্রাতঃকালটা হঠাৎ একটা ঘন কুয়াশায় সমস্ত অস্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছিল। বায় মহাশয় সেইমাত্র শয্যাত্যাগ করিয়া বাহিরে আসিয়াছিলেন ; একজন ভদ্রব্যক্তিকে প্রবেশ করিতে দেখিয়া কহিলেন, কে ও ? আমি নিৰ্ম্মল, ললিয়া জামাতা কাছে আসিয় তাহাকে প্রণাম করিল। এই আকস্মিক আগমনে তিনি কোনরূপ বিস্ময় বা হর্ষ প্রকাশ করিলেন না । চাকরদের ভাকিয়া বলিলেন, কে আছিস্ রে, নির্ণলের জিনিসপত্রগুলো সব হৈমর বরে রেখে জায় । তা গাড়িতে কষ্ট হয়নি ত বাবা ? খোকা, হৈম, এরা সব ভাল আছে ত ? নিৰ্ম্মল ঘাড় নাড়ির জানাইল, সকলে ভাল আছে । রায় মহাশয় কহিলেন, কিন্তু এক এলে কেন নিৰ্ম্মল, মেয়েটাকে সঙ্গে আনিলে ত জার একবার দেখা হ’তো । নিৰ্ম্মল বলিল, দু-চারদিনের জন্যে আবার— রায় মহাশয় ঈষৎ হান্স করিলেন, ; বলিলেন, এ কি দু-চাল্পদিনের ব্যাপার বাবী, দু-চার মাসের দরকার । যাও, ভেতরে যাও—মুখ-হাত ধোও গে। নিৰ্ম্মল ভিতরে আসিয়া দেখিল এখানেও সেই একই ভাব । যে-প্রকারেই হোক হাত-ধোয়, কাপড়-ছাড়া প্রভৃতি সমাধা হইলে গরম চা এবং কিছু জলখাবার স্বপ্ৰঠাকুরাণী স্বহস্তে আনিয়া জামাতাকে নিজে খাওয়াইতে বসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, হৈম কি আসতে চাইলে না ? নিৰ্ম্মল কহিল, না । তারা জানে তুমি কেন আসছ ? নিৰ্ম্মল মাথা নাড়িয়া বলিল, জানে বই কি, সমস্তই জানে। তবু মানা করলে না ? র্তাহার প্রশ্ন ও কণ্ঠস্বয়ে নিৰ্ম্মল পীড়া অনুভব করিয়া বলিল, মান কেন করবে মা ? সে ত জানে আমি অন্যায় কাজে কোনদিনই হাত দিইনে । আর তার বাপই কেবল অন্তায় কাজে হাত দিয়ে বেড়ায়, এই কি সে জানে নিৰ্ম্মল ? এই বলিয়। তিনি ক্ষণকাল নতমুখে স্থির থাকিয়া অকস্মাৎ আবেগের সহিত বলিয়া উঠিলেন, তা সে যাই কেন না জালুক বাছ, এ তুমি করতে পারবে ন+ এ-কাজে তোমাকে আমি কোনমতেই নামতে দিতে পারব না। শ্বশুর-জামাইয়ে $ow