প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ হুজুরের কিন্তু নেশা বাড়িয়া উঠিতেছিল, তিনি নিম্পূহ জড়িত-কণ্ঠে বলিলেন, তুমি তারাদাসের নামটাই ত করলে এককড়ি আবার ওর এল কারা ? এককড়ি কহিল, চক্কোক্তির মেয়ে ভৈরবী । নইলে চক্কোত্তি মশাই নিজে তত লোক মন্দ নয়, কিন্তু মেয়েটাই হচ্চে আসলে সৰ্ব্বনাশী । দেশের যত বোম্বেটে বদমাশ গুলো হয়েচে যেন একেবারে তার গোলাম । জমিদারবাবুর কানে বোধ করি সমস্ত কথাগুলি পৌছিল না । তিনি তেমনি অঙ্কুটস্বরে বলিলেন, হবারই কথা । কত বয়স ? দেখতে কেমন ? এককড়ি কহিল, বয়স তেইশ-চব্বিশ হতে পারে। আর রূপের কথা যদি বলেন হুজুর, ত সে যেন এক কাটখোটা সেপাই । না আছে মেয়েলী ছিরি, না আছে মেয়েলী ছাদ যেন চুয়াড়, যেন হাতিয়ার বেঁধে লড়াই করতে চলেচে । তাতে ত দেশের ছোটলোকগুলো মনে করে গড়ের উনিই হচ্চেন সাক্ষাং চণ্ডী । জীবানন্দ অকস্মাং সোজা উঠিয়া বসিলেন । উৎসাহ ও কৌতুহলে দুই রক্তচক্ষু বিস্ফারিত করিয়া বলিলেন, বল কি এককডি ? ব্যাপারটা কি খুলে বল ত শুনি ? না হয় চুয়াড়ের মতই দেখতে, তবু ত গৃহস্থ ব্রাহ্মণের মেয়ে - সৰ্ব্বনাশীই বা হ’ল কি ক’রে, আর বোম্বেটে বদমাশের দলই বা তার জুটলো কোথা থেকে ? এককড়ি কহিল, তা আর আশ্চৰ্ঘ্যি কি হুজুর ! বলিয়। সে ভৈরবীর যে ইতিহাসটা দিল তাহা সংক্ষেপে এইরূপ — ভৈরবী কাহারও নাম নয়, গড়চণ্ডীর প্রধান সেবিকাদের ইহা একটি সাধারণ উপাধি। যেমন বৰ্ত্তমান ভৈরবীর নাম ষোড়শী এবং ইহার পূৰ্ব্বে যিনি ছিলেন তাহার নাম ছিল মাতঙ্গিনী ভৈরবী । মাতার আদেশে তাহার সেবায়েত কখনও পুরুষ হইতে পারে না, মেয়েরাই এ পদ চিরদিন অধিকার করিয়া আসিতেছে । আন্দাজ বংসর পনের-ঘোল হইবে হঠাৎ একদিন জানা যায় মাতঙ্গিনী ভৈরবীর স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে। কথাটা অনেক কষ্টে যখন সত্য বলিয়াই প্রমাণিত হয়, তখন বাধ্য হইয়া মাতঙ্গিনীকে পদত্যাগ করিয়া কাশী চলিয়া খাইতে হয় । জীবানন্দ এতক্ষণ চুপ করিয়া শুনিতেছিলেন, আশ্চৰ্য্য হইয়া প্রশ্ন করিলেন, বিধবা হ’লে বুঝি ভৈরবী-গিরি খারিজ হয়ে যায় ? এককড়ি কহিল, হুঁ হুজুর । তাই বুঝি তিনি স্বামীটিকে অজ্ঞাতবাসে পাঠিয়েছিলেন ? এককড়ি বলিল, সে ছাড়া আর ত কোন উপায় নেই হুজুর । মায়ের আদেশে বিয়ের তেরাত্রি পরে স্বামীর আর ভৈরবী স্পর্শ করিবারও জো নেই। তাই দূর দেশ থেকে দুঃখী গরীবদের একটা ছেলে ধরে এনে বিয়ে দিয়ে পরের দিনই w