প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৪৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনা ফুরসৎ পাননি, ষোড়শী খাবার আনতে ঘরের বাইরে যেতে র্তার চোখ পড়ল একটা চিঠির টুকরোর পরে। বোধ হয় তোমাকে লিখে ছিড়ে ফেলে দিয়ে শেধে হৈমকেই লিখেছিল। সেখান ও মজ দেখতে পাবে, তিনি সঞ্চালপেল অ{সবাস সময় সঙ্গে নিম্নে এসেছিলেন । নিৰ্ম্মল ক্রোধে জ্বলিয়া উঠিয় বলিল, মিথ্যে কথা । সে নির্লজ্জ, নিজে অপরাধী, সেই মাতাল পাজী বদমাইসটার কথা আপনারা বিশ্বাস করেন ? হতেই পারে না। রায় মহাশয় শুধু একটু মৃদু হাসিলেন । অবিচলিত-স্বরে কহিলেন, হতে পারে, এবং হয়েছে । জমিদার লোকটা যে নির্লজ, মাতাল, পাজী, বদমাইস, ত}ও জানি ; বোধ হয় আরও ঢের বেশী, নইলে তার কলঙ্কের কথাটা মুখে আনতেও পারত না। ওর নিষ্ঠুরতার অবধি নেই। গ্রামের মঙ্গলের জন্য ও এ-কাজে হাত দেয়নি, ঠাকুর-দেবতা ও মানে না । জোর করে মন্দিরে খাসি বলি দিয়ে খেয়েছিল । আবশ্যক হলে ওপাষণ্ড মুরগী, শুয়োর, এমন কি গো-বধ করেও খেতে পারে। তবুও তাকে আপনি সাহায্য করতে চান ? না, আমি কাটা দিয়ে কাটা তুলতে চাই । নিৰ্ম্মল অনেকক্ষণ স্থির থাকিয়া কহিল, আপনার কাটা উঠবে কি না জানিনে, কিন্তু সে নিষ্কণ্টক হবে । দেবীর যে সম্পত্তিটা সে বিক্রি করতে চায়, ষোড়শী ভৈরবী থাকতে তার স্ববিধে হবে না । রায় মহাশয় কহিলেন, সে গেলেও স্ববিধে হবে ন!—আমি আছি । তিনি আছেন এতবড় ঘটনাটা নিৰ্ম্মল বিস্মৃত হইয়াছিল, তাহার তৎক্ষণং মনে হইল, জমিদারের সুবিধা ন হইতে পারে, কিন্তু দেবীরও স্ববিধা হইবে না । তবে সে স্ববিধাটা যে কাহার হইবে তাহাও মুখ দিয়া বাহির করিল না । রায় মহাশয় স্নিগ্ধ-কণ্ঠে কহিলেন, বাবা নিৰ্ম্মল, তুমি বড় আহন-ব্যবসায়ী, অনেক বোঝ, কিন্তু সংসারে এসে খালি-হাতে আমাকে যখন লড়াই শুরু করতে হয়েছিল, তখন শুধু কেবল বিষয়-সম্পত্তি জমা করেই কাটাইনি, মাথার ভেতরেও কিছু কিছু সঞ্চয় করবার সুযোগ পেয়েছিলাম । তোমাকে লোকে বলচে ওই জমিটুকুর ওপরেই জমিদারের লোভ—ষোড়শী কড়া মেয়ে, ও থাকতে কিছু হবার নয়, তাই নিজেদের কলঙ্কটা বৃটিয়ে তাকে তাড়াতে চায় । আচ্ছা বাবাজী, বীজগার জমিদারের কাছে ওটুকু কতটুকু সম্পত্তি ? তার টাকার দরকার, একটা না হলে আর একটা বিক্রি করবে, আটকাবে না ; কিন্তু যেখানে তার সত্যিকার আটকেচে, সে সম্পূর্ণ অপ্ত জিনিস। এই জঙ্গলের মাঝে মাসের পর মাস সে থাকতে পারে না, সহরের মাচুধ সহরে যেতে চায় । নিৰ্ম্মল, হৈমর মত তুমিও আমার ছেলে, তোমাকে বলতে সঙ্কোচ হয়, কিন্তু ওই ছুড়িটার ভালই যদি করতে চাও ত বলে দিয়ে, তার ভয় ופיל مجالاس جع