প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ করিয়া কয়েক পদ অগ্রসর হইতে নির্ণল স্পষ্ট বুঝিতে পারিল এই মৃগঠিত দীর্ঘ ঋজু দেহ ষোড়শী ভিন্ন আর কাহারও নহে! সে দ্বারের বাহিরে আসিয়া ফিরিয়া দাড়াইল এবং ঈষৎ একটু হাসিয়া অতুযোগের কণ্ঠে কছিল, কি দাড়িয়ে যা তা শুনচেন! কতকগুলো কাপুরুষ থিলে দু’জন অসহায় স্ত্রীলোকের কুৎসা রটনা করচে —তাও আবার একজন মৃত, আর একজন তামুপস্থিত । চলুন আমার ঘরে, সেখানে ফকির সাহেব বসে আছেন, আপনাকে পরিচিত ক’রে দিই গে । তিনি কবে এলেন ? কি জানি । বিকেলবেল ফিরে গিয়ে দেখি আমার ঘরের সম্মুখে দাড়িয়ে । আনন্দ আর রাখতে পারলাম না, প্ৰণাম করে নিয়ে গিয়ে আমার ঘরে বসালাম, সমস্ত ইতিহাস মন দিয়ে শুনলেন । শুনে কি বলবেন ? শুধু একটু হাসলেন। বোধ হলো যেন সমস্তই জানতেন। কিন্তু ই নিৰ্ম্মলবাবু, আপনি না কি বলেচেন আমার মামলা-মোকদ্দমার সমস্ত ভার নেবেন? একি সত্যি ? নিৰ্ম্মল ঘাড় নাড়িয়া কহিল, ষ্টা সত্যি । কিন্তু কেন নেবেন ? নিৰ্ম্মল একমুহূৰ্ব্ব চুপ কবিয়া থাকিয়া কহিল, বোধ করি আপনার প্রতি অন্যায়অত্যাচার হচ্চে বলেক্ট । কন্তু আর কিছু বোধ করেন না ত ? বলিয়াই ষোড়শী ফিক্‌ করিয়া হাসিয়া ফেলিয় কহিল, থাক সব কথার যে জবাব দিতেই হবে এমন কিছু শাস্ত্রের শাসন নেই। বিশেষ করে কূট-কচালে শাস্ত্রের—না? আমুন, আমার ঘরে আমুন। তাহার কুটিরে প্রবেশ করিয়া দেখিল ফকিরসাহেব নাই | কহিল, কোথায় গেছেন, বোধ হয় এখনি ফিরে আসবেন । প্রদীপ স্তিমিত হইয়া আসিয়াছিল, উজ্জল করিয়া দিয়া পাতা আসনখানি দেখাইয়া দিয়া কহিল, বস্থন । হাঙ্গম, হৈ-চৈ, গণ্ডগোলের মাঝে এমন সময় পাইনে যে, বসে দু'দও গল্প করি। আচ্ছা, মোকদ্দমার যেন সকল ভারই নিলেন, কিন্তু যদি হার, তখন ভার কে নেবে? তখন পেছবেন না ত ? নিৰ্ম্মল জবাব দিতে পারিল না, তাহার কান পৰ্য্যন্ত রাঙা হইয়া উঠিল । খাণিকক্ষণ পরে কহিল, হারবার কোন সম্ভাবন। আমাদের নেই। : ত৷ বটে। বলিয়। একবার একটুখানি যেন ষোড়শী বিমন হইয় পড়িল, কিন্তু পলকমাত্র। সহসা চকিত হইয়া প্রশ্ন করিল, ছেলে কেমন আছে নিৰ্ম্মলবাবু। কি করে তাকে ছেড়ে এলেন বলুন ত? আমি ত পারিনে । অকস্মাং এই অসংলগ্ন প্রশ্নে নিৰ্ম্মল আশ্চর্ঘ্য হইল। ষোড়শী একবার এ-দিকে »ፀ: