প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনী শিরোমণি বলিলেন, ব্যাপার কি ! দশখন গায়ে রাষ্ট্র হতে বাকি আছে নকি ? ৰেটি চাবি-পত্র যা-কিছু সমস্ত দিয়ে চলে যাচ্ছে যে ! বলি, শোন নি নাকি ? যে ভদ্রলোক সকাল হইতে বসিয়া এ-মাসের সুদের কিছু টাকা মাপ করিতে অনুনয়-বিনয় করিতেছিল, সে কহিল, বেশ ! যজ্ঞেশ্বর জানলেন না, আর খবর পেলেন ঘেটু-মনসা ? এ-সব করলে কে শিরোমণিখুড়ে, সমস্তই ত রায়মশায়ই । শিরোমণি আসন গ্রহণ করিয়া বলিলেন, কিন্তু আসল চাবিটা শুনচি নাকি গিয়ে পড়েচে জমিদারের হাতে ? ব্যাটা পাড় মাতাল—দেখো ভায়া, শেষকালে মায়ের সিন্দুকের সেনা-রূপো না চুকে যায় শুড়ির সিন্দুকে পাপের আর অবধি থাকবে না | ক্রমশ: একে একে গ্রামের অনেকেই আসিয়া উপস্থিত হইলেন । স্থির হইল জমিদারের হাত হইতে চাবিটা অবিলম্বে উদ্ধার করা চাই। বেলা তৃতীয় প্রহরে ঘুম ভাঙিয়া উঠিয়া হুজুর যখন মর্দ খাইতে আরম্ভ করিবেন, তাহার মাতাল হইয়া পড়িবার পূর্বেই সেটা হস্তগত করা প্রয়োজন । সেটা তাহার হাতে যাওয়ার সম্বন্ধে জনাৰ্দ্দন নিজের সামান্য একটু ত্রুটি ও অবিবেচনা স্বীকার করিয়া লইয়াই কহিলেন, সমস্তই স্থির করে রেখেছিলাম, হঠাৎ উনি যে মাঝ থেকে চাবি হাত করবেন, সেটা আর খেয়াল করিনি । এখন সহজে দিলে হয় । দশ দিন পরে হয়ত বলে বসবে, কই কিছুই ত সিন্দুকে. ছিল না! কিন্তু আমরা সবাই জানি, ভায়া, ষোড়শী আর যাই কেন না করুক, মায়ের সম্পত্তি অপহরণ করবে না—একটি পাই-পয়সা না । সকলে এ কথা স্বীকার করিল। অনেকের এমনও মনে হইল, ইহার চেয়ে বরঞ্চ সেই-ই ছিল ভাল । এই দল যথাসময়ে এবং যথোচিত সমারোহে যখন জমিদারের শান্তিকুঞ্জে আসিয়া উপস্থিত হইল, জমিদার তখন বাহিরের ঘরে বসিয়া । মদের বোতল ও গ্লাসের পরিবর্তে জমিদারীর মোটা মোটা থাত-পত্র তাহার সম্মুখে । এক ধারে বসিয়া র্তাহার সহচর প্রফুল্লচন্দ্র খবরের কাগজ পড়িতেছিল, সে-ই সকলকে অভ্যর্থনা করিয়া বসাইল । শিরোমণি সকলের অগ্রে কথা কহেন, এবং সকলের শেষে অমুতাপ করেন। এ ক্ষেত্রেও তিনিই কথা কহিলেন ; বলিলেন, হুজুরের পাছে নিদ্রার ব্যাঘাত হয়, তাই একটু বিলম্ব করেই আমরা সকলে— - জীবানন্দ খাতা-পত্র এক পাশে ঠেলিয়া রাখিয়া সহাস্তে কহিলেন, বিলম্ব না করে এলেও হুজুরের নিদ্রার ব্যাঘাত হতো না শিরোমণিমশাই, কারণ দিনের বেল তিনি নিদ্রা যান না । কিন্তু আমরা যে শুনি হুজুর እ¢yo 建膏一总*