প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনা যদি সলোমন সাহেবের দেনাটা শোধ যায় ত, শুধু রসের বাষ্প কেন, মুষলধারে বর্ষণ শুরু হতে পারবে । জীবানন্দ কহিল, প্রফুল্প, এইজন্তেই তোমাকে এত পছন্দ করি । প্রফুল্ল হাতজোড় করিয়া বলিল, এই পছন্দটা এইবার একটু খাটো করতে হবে দাদা। রসের উৎস আপনার অফুরন্ত হোক, কিন্তু মোসাহেবী করে এ অধীনের গলার চুঙ্গি পৰ্য্যন্ত কাঠ হয়ে গেল। এইবার একবার বাইরে গিয়ে দুটাে ডালভাতের যোগাড় করতে হবে । কাল-পরশু আমি বিদায় নিলাম । জীবানন্দ হাসিয়া কহিল, একেবারে নিলে ? কিন্তু এইবার নিয়ে ক’বার নেওয়া হ’লে প্রফুল্ল ? বার-চারেক। এই বলিয়া সে নিজেও হাসিয়া ফেলিয়া কহিল, ভগবান মুখটা দিয়েছিলেন, তা বড়লোকের প্রসাদ খেয়েই দিন গেল ; দুটো বড় কথাও যদি না মাঝে মাঝে বার করতে পারি ত নিতান্তই এর জাত যায় । নেহাৎ অপরাধও নেই দাদা। বহুকাল ধরে আপনাদের জলকে কখনো উচু কখনো নীচু বলে এ দেহটায় মেদ-মাংসই কেবল শ্ৰীবৃদ্ধি লাভ করেচে, সত্যিকারের রক্ত বলতে বোধকরি ছিটেফোটাও আর বাকি নেই। আজ ভাবচি এক কাজ করব । সন্ধ্যার আবছায়ায় গা-ঢাকা দিয়ে গিয়ে খপ করে ভৈরবী ঠাকরুণের এক খামচা পায়ের ধূলো নিয়ে গিলে ফেলব। আপনার অনেক ভাল-মন্দ দ্রব্যই ত আজ পর্য্যস্ত উদয়স্থ করেচি, এ নইলে সেগুলো আর হজম হবে না, পেটে লোহার মত ফুটবে । জীবানন্দ হাসিবার চেষ্টা করিয়া কহিল, আজ উচ্ছ্বাসের কিছু বাড়াবাড়ি হচ্ছে প্রফুল্ল । প্রফুল্ল পুনশ্চ হাতজোড় করিয়া কছিল, তা হলে বস্থন দাদ, এটা শেষ করি। মোসাহেবীর পেন্সন বলে সেদিন যে উইলখানায় হাজার-পাঁচেক টাকা লিখে রেখেচেন, সেটার ওপরে দয়া করে একটা কলমের আঁচড় দিয়ে রাখবেন—চওঁীর টাকাটা হাতে এলে মোসাহেবের অভাব হবে না, কিন্তু আমাকে দান করে অতগুলো টাকার আর দুৰ্গতি করবেন না ! জীবানন্দ কহিল, তা হলে এবার আমাকে তুমি সত্যি সত্যিই ছাড়লে ? প্রফুল্ল তেমনি করজোড়ে কহিল, আশীৰ্ব্বাদ করুন, এই স্বমতটুকু শেষ পৰ্য্যস্ত যেন বজায় থাকে । জীবানন্দ মৌন হুইয়া রহিল । প্রফুল্ল জিজ্ঞাসা করিল, কবে যাচ্চেন তিনি ? জানিনে । কোথায় যাচ্ছেন তিনি ? እ¢ ' ,