প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ জগুজন জবাব দিল, মায়ের চৌকাঠ ছয়ে দিব্যি করলাম খুড়ো—ফসি যেতে হয় তাও যাবো । আর একজন বলিল, হয়—আমাদের আবার জেল ! আমাদের আবার ফাসি ! মাচলে যেতে চাচ্ছে, আগে যাকৃ— অন্ধকারে না চিনিল মানুষ, না চিনিল গল, তবু মনে হইল একজনের গভীর কণ্ঠস্বর সে কোথাও যেন শুনিয়াছে, একেবারে অপরিচিত নয়। চেষ্টা করিলে হয়ত মনে করিতে পারিত। কিন্তু আজ তাহার সে-দিকে মনই গেল না । সে ত অনেকের অনেক সৰ্ব্বনাশ করিয়াছে—অতএব নিজেই ত সে ইহার লক্ষ্য হইতে পারে, কিন্তু আজ তাহা নির্ণয় করিবার ইচ্ছাই হইল না । মনে মনে হাসিয়া কহিল, বাস্তবিক, ঠাকুর-দেবতার মত এমন সহৃদয় শ্রোতা আর নেই। হোক না মিথ্যা দস্ত, তবু তার দাম আছে। দুৰ্ব্বলের ব্যর্থ পৌরুষ তবু একটু গৌরবের স্বাদ পায় । আহা ! অলক্ষ্যে নিঃশব্দে যখন বাহির হইয়া আসিল তখন রাত্রি বোধ হয় দ্বিপ্রহর অতীত হইয়া গিয়াছে। নিৰ্ম্মল কালো আকাশ তারায় তারায় ঠাসা । সেই অসংখ্য নক্ষত্ৰলোক হইতে ঝরিয়া অদৃপ্ত আলোকের আভাস অন্ধকার পথের মাটিকে ধূসর করিয়া দিয়াছে। তাহারই মাঝে মাঝে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত কঠিন মাটির ভূপ পথশ্রান্ত পথিকের মত কতকাল ধরিয়া যেন নিঃশব্দে বসিয়া আছে তাহার ইতিহাস নাই ; তাহারই একটি পাশে গিয়া সে ঠিক তেমনি কবিয়াই ধুলার উপর বসিয়া পড়িল । স্বমুখে কতকটা পতিত জমির একধারে ষোড়শীর কুটার, গাছের আড়ালে বেশ স্পষ্ট দেখা না গেলেও তাহার মনে হইল অনেকগুলি মানুষ যেন সার বাধিয়া বাহির হইয়া আসিল, এবং অনতিদুর দিয়া যখন চলিয়া গেল, তখন ইহাদের কথাবার্তা হইতে জীবানন্দ এইটুকু সংগ্রহ করিল যে, ষোড়শীর গো-যান আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে এবং কাল প্রত্যুষেই সে চণ্ডীগড় ত্যাগ করিয়া যাইবে । ভক্ত প্রজার দল তাহার পদধূলি লইয়া ঘরে ফিরি;তছে। ষোড়শীকে নিষেধ করিবার পথ নাই, নিষেধ করিলে সে শুনিবে না, এই কয়দিনে এতটুকু তাহাকে সে চিনিয়াছে—কিন্তু মন তাহার ব্যথায় ভরিয়া উঠিল । সজ্ঞানে ও অজ্ঞানে ইহার বিরুদ্ধে যত অস্কায় করিয়াছে, একটি একটি করিয়া এতকাল পরে তাহার তালিকা করা অসম্ভব, কিন্তু সেইসকল অগণিত অত্যাচারের সমষ্টি আজ তাহার চোখের উপর ভূপাকার হইয়া উঠিল । ইহাকে সরাইয়। রাখিবার স্থান সংসারে সে কোথাও দেখিল না। স্ত্রী বলিয়া স্বীকার করিতে যাহাকে লজ্জাবোধ করিয়াছে, গণিকা বলিয়া তাহাকেই কামনা করিবার শয়তানী সে যে কোথায় পাইয়াছিল ভাবিয়া পাইল না। আজ সমস্ত হৃদয় তাহার ষোড়শীকে একান্ত-মনে চাহিতেছে, এ তাহার অধিকারের দাবী, yuta