প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ শুনিবামাত্রই ষোড়শী হাড়িটা দুম করিয়া চুলা হইতে নামাইয়া দিয়া ক্রোধে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্ত হইয়া দ্রুতবেগে মন্দিরে চলিয়াছিল, বহিদ্বারে জনচারেক হিন্দুস্থানী পাইক তাহার গতিরোধ করিয়া দাড়াইল। বিশ্বম্ভর দূর হইতে বাড়িটা দেখাইয়া দিয়া সরিয়া পড়িল । ইহার জমিদারের পালকি-বেহার। যুখে তাড়ির দুর্গন্ধ, চোখগুলো রাঞ্জা -অত্যন্ত উচ্চুম্বল অবস্থা। যে লোকটা বাঙলা শিখিয়াছে, সে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করিল, শালা ঠাকুরমশাই ঘোরে আছে ? শালা টাকা দেবে না ভেগে ফিরচে । ষোড়শী চাহিয়া দেখিল কোথাও কেহ নাই। পাছে এই দুবিনীত মদমত্ত পশুগুলা হঠাৎ তাহাকেই অপমান করিয়া বসে এই ভয়ে সে দুর্জয় ক্রোধ প্রাণপণে সংবরণ করিয়া মুম্বুকণ্ঠে কহিল, না, বাবা বাড়ি নেই। কোথায় গিয়েছে ? আমি জানি নে, বলিয়া যোড়শী পাশ কাটাইবার চেষ্টা করিতেই লোকটা হাত বাড়াইয়া একটা অত্যন্ত অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করিয়া কহিল, না আছে ত তুই চোল । গোলায় গামছা লাগিয়ে খি চে লিয়ে যাবো । এ অপমান যোড়শীকে একেবারে আত্মহারা করিয়া ফেলিল । সে প্রচণ্ড একটা ধমক দিয়া কহিল, খবরদার বলটি । চল আমিই যাবো তোদের মাতালটা আমাকে কি করতে পারে দেখি গে। বলিয়া সে পরিণাম-ভয়হান উন্মাদিনীর ন্যায় নিজেই দ্রুতপদে অগ্রসর হইয়া চলিল । পথে দুই-একজন পরিচিত লোকের সহিত সাক্ষাৎ হইল, কিন্তু ষোড়শী ভ্ৰক্ষেপও করিল না। জমিদারের লোকগুলো পিছনে হল্লা করিয়া চলিয়াছে, ইহাব অর্থ পল্লীগ্রামের কাহাকেও বুঝাইয়া বলা নিম্প্রয়োজন বলিয়াই শুধু নয়, কাহারও সাহায্যভিক্ষা করিয়া এত বড় অবমাননাকে আর নিজের মুখে চতুর্দিকে ছড়াইয়া দিতে তাহার কিছুতেই প্রবৃত্তি হইল না। কাছারি-বাড়ি বেশী দূর নয়, এককড়ি সম্মুখেই ছিল । সে দেখিবামাত্র বলিয়া উঠিল, আমি জানি নে—কিছুই আমি জানি নে—সর্দারজী, হুজুরের কাছে নিয়ে যাও । বলিয়া সে শান্তি-কুটিরের উদ্দেশে অঙ্গুলি সংকেত করিয়া তাড়াতাড়ি গিয়া ভিতরে প্রবেশ করিল। এতক্ষণে যোড়শী নিজের বিপদের গুরুত্ব সম্পূর্ণ উপলব্ধি করিয়া শঙ্কিত হইয়া উঠিল । কোথায় যাইতে হইবে বুঝিয়াও জিজ্ঞাসা করিল, আমাকে কোথায় যেতে হবে ? লোকটা এককড়ির প্রদশিত দিকটা নির্দেশ করিয়া কেবল কহিল, চল।