প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৮০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ লইয়া ষোড়শী প্রবেশ করিল। শালপাতায় জলে ভিজানো সরু ধানের চিড়া, শালপাতার ঠোঙায় দধি, আর একটা পাতায় কিছু ফল-মূল ও চিনি, এবং ঘটতে করিয়া জল আনিয়া তাহার সম্মুখে রাখিয়া দিয়া একটুখানি মলিন হাসিয়া বলিল, সেদিন ধনীর দেওয়া ঠাকুরের প্রসাদ ছিল, আর আজ গরীবের ঘরের চিড়ে দুই আর একটু চিনি। এ কি আপনার মুখে রুচবে ? জীবানন্দ হাত-মুখ ধুইয়া খাইতে বসিয়া বলিল, তুমি খেতে দিলে মুখের জন্যে ভাবিনে অলকা, কিন্তু পেটে সহ হলে হয় ; আমার আবার সেই কলিকের ব্যথায়— কথা শেষ না হতেই ষোড়শী চক্ষের পলকে পাতাটা টানিয়া লইল । ব্যাকুল স্নানমুখে কপালে করাঘাত করিয়া কহিল, আমার পোড়াকপাল, তাই ভুলেছিলাম। কিন্তু এ ত আপনাকে আমি প্রাণাস্তে খেতে দিতে পারব না। জীবানন্দ নিজের কথায় লজ্জাবোধ করিয়া কহিল, বেশি না খেলে বোধ হয় ক্ষতি হবে না । ষোড়শী বলিল, বোধ হয় ! বোধ হয় নিয়ে আপনাদের চলে, কিন্তু আমাদের চলে না । কিন্তু এর জন্যে ত তোমার দুঃখ হবে। ষোড়শী চক্ষু বিস্ফারিত করিয়া কহিল, দুঃখ হবে কি গো ? যাবার সময় তোমার মুখের খাবার কেড়ে নিয়েচি, কিছু দিতে পারিনি—আমি তো কেঁদেই মরে যাবে। একটু মৌন থাকিয়া হঠাৎ ভারি একটা অহ্নয়ের স্বরে বলিয়া উঠিল, ওবেলা নানা ঝঞ্জাটে রাধতে পারিনি, এবেলা সন্ধ্যার পর রে ধেচি ! ভাত, মাছের ঝোল— মাছের ঝোল কি রকম ? ষোড়শী হাসিয়া কহিল, কেন, আমি বিধবা নাকি ? আমি ত সব খাই । এতক্ষণ পরে জীবানন্দ হাসিল, বলিল, তাহলে সেগুলি সব নিজের জন্যে রেখে আমাকে দয়া করে ফলার খাওয়াতে গেলে কেন ? ষোড়শী তৎক্ষণাং কহিল, আমার দোষ হয়েচে, অপরাধ হয়েচে—একশ’বার ঘাট স্বীকার করচি। যদি বলেন ত আপনার কাছে আমি দশ হাত মেপে নাকে খং দিতে পারি। এই বলিয়া সে ভিজা চিড়ার পাতাটা তুলিয়া ভাত ও মাছের ঝোল আনিতে হাসিমুখে উঠিয়া গেল । ষোড়শীর প্রশ্নের উত্তরে জীবানন্দ যখন বলিয়াছিল, তাহার ভাবনার আদি-অন্ত নাই, তখন সে মিথ্যা বলে নাই, বোধ করি বাড়াইয়াও বলে নাই। এ-জীবনে নিজের জীরনকে সে কখনও আলোচনার বিষয় করে নাই, এবং কোনদিন কোন প্রয়োজনই তাহার মুহূর্তের প্রয়োজনকে অতিক্রম কহিয়। যাইতে পারে নাই। তাই, . »ግቑ