প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৮২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ নিষ্ফল হইয়াছে তাহ সে প্রত্যক্ষ দেখিতে পাইল । একটু চুপ করিয়া কহিল, কিন্তু এ-কথা ত এতদিন আমার চেয়ে আপনিই বেশি জানতেন । জীবানন্দ বলিল, কিন্তু নিৰ্ম্মল তোমাকে ভালবাসে এ ত সত্য | প্রত্যুত্তরে ষোড়শী তাহার আরক্ত মুখ অপরের দৃষ্টির আড়ালে রাখিয়া কহিল, সে কি আমার দোষ ? আর কেউ যদি ভালবাসার কদর্য্যতায় জীবন আমার দুর্ভর করে তোলে, সেও কি আমার অপরাধ ? কিন্তু কথাটা বলিয়া ফেলিয়াই সে তাহার মুখ দেখিয়া অনুতাপে বিদ্ধ হইয়া তাড়াতাড়ি কহিল, কিন্তু আমার দোষের জন্যে ত আর এরা দায়ী নয়! এই বলিয়া সে সম্মুখের অন্ন-পাত্রটা দেখাইয়া বলিল, খাওয়া বন্ধ হ’লে কেন ? সবই যে পড়ে রইল ? না, এই ত থাচ্চি, বলিয়া সে আহারে মন দিল । গাড়োয়ান স্থাকিয়া কহিল, মা, আর কি বেশি দেরি হবে ? ন, বাবা, আর বেশি দেরি হবে না। গলা খাটো করিয়া কহিল, চণ্ডীগড় থেকে আপনাকে কিন্তু যেতেই হবে, তা বলে দিচ্চি । জীবানন্দ কহিল, কোথায় যাবে বল ? কেন, আপনার নিজের বাড়িতে, বীজগায়ে । বেশ, তাই যাবো । কিন্তু কালকেই যেতে হবে। জীবানন্দ মুখ তুলিয়া বলিল, কালই ? কিন্তু কাজ আছে যে ৷ মাঠের জলনিকেশের একটা সঁকো করা দরকার । এদের জমিগুলো সব ফিরিয়ে দিতে হবে, সে ত তোমারই হুকুম । তা ছাড়া, মন্দিরের একটা ভালো বিলি-ব্যবস্থা হওয়া চাই-অথিতি-অভ্যাগত যারা আসে তাদের উপর না অত্যাচার হয়—এ সব না করেই কি তুমি চলে যেতে বলচ ? ষোড়শী মুস্কিলে পড়িল । কিন্তু হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, এ-সব সাধু সঙ্কল্প কি কাল সকাল পর্য্যস্ত থাকবে ? জীবানন্দ এই পরিহাসে যোগ দিল না, চুপ করিয়া রহিল। যোড়শী বলিল, কিন্তু আবশ্বকের চেয়ে একটা দিনও বেশি থাকবেন না আমাকে কথা দিন। এবং সে ক’টা দিন আগেকার মত সাবধানে থাকবেন বলুন ? এ কথারও সে জবাব দিল না, নিঃশব্দে বসিয়া আহার করিতে লাগিল। ষোড়শী জিম্ব করিল না, কিন্তু কথার চেয়ে নীরবতা জীবানদের ভিতরের পরিবর্তন তাহার কাছে অধিকতর স্বব্যক্ত করিল। খাওয়া শেষ হইলে বাহিরে আসিয়া ষোড়শী তাহার হাতে জল ঢালিয়া দিল ; একমাত্র গামছাট পুটুলির কাজে নিযুক্ত হইয়া আগে হইতেই গাড়ির মধ্যে স্থান ארג