প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনা লাভ করিয়াছিল, নিজের অঞ্চলটা সে তাহার হাতে তুলিয়া দিয়া শুধু কহিল, এই নিন ! জীবানন্দ হাত-মুখ মুছিয়া হঠাৎ বলিল, এ কিন্তু তুমি আর কাউকে দিতে পারতে না অলকা ৷ ষোড়শী আঁচলটা তাহার টানিয়া লইয়া আনত মুখে শুধু কহিল, ঘরে এসে আর একটু বস্থান, গুছিয়ে নিয়ে বার হয়ে পড়তে আর বেশি দেরি হবে না। আমাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে তবে আপনি যেতে পাবেন । জীবানন্দ কহিল, অর্থাৎ তোমাকে নিৰ্ব্বাসিত করার কাজটা নিঃশেষ করেই যেতে পারি। ভালো, আমি তাই করে যাবে, কিন্তু তোমারও একটা কাজ রইল। আমার কৃত-কর্মের ফল আমি ভোগ করব না ত কে করবে—সে অভিযোগ আমি একটিবারও কারে কাছে করিনি–কিন্তু যাবার সময় তোমার কাছে শুধু এইটুকু মাত্র দাবি করব, আমি তার বেশি আর দুঃখ না পাই। এই বলিয়া সে ঘরে আসিয়া পকেট হইতে চিঠি বাহির করিয়া ষোড়শীয় হাতে দিয়া কহিল, সারাদিন তোমার খাওয়া হয়নি, এইবার কিছু মুখে দাও আমি ততক্ষণ অন্ধকারে খানিক ঘুরে আসি। ঠিক সময়ে উপস্থিত হবো। এই বলিয়া সে বাহির হইবার উপক্রম করিতেই চক্ষের পলকে ষোড়শী দ্বার রোধ করিয়া দাড়াইল । এত কথার মধ্যেও যে এই পর্যুঃখ-বিমুখ আত্মসৰ্ব্বস্ব লোকটি তাহার খাইবার অতি তুচ্ছ ব্যাপারটি মনে রাখিয়াছে, এই কথা মনে করিয়া তাহার বুকে স্ব চ ফুটিল, হাতের চিঠিখানির প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, এ ত আমাকেই লেখা, আপনার স্বমুখেই কি এ পত্র আমি পড়তে পারিনে ? জীবানন্দ কহিল, পারে, কিন্তু অনাবশ্বক, এর জবাব দেবার ত প্রয়োজন হবে না। আমাকে দুঃখ থেকে বাচাবার জন্য তার ঢের বেশি দুঃখ তুমি নিজে নিয়েচ। নইলে এমন করে হয়ত তোমাকে যেতেও হ’তে না । আমার শেষ অনুরোধ এতেই লেখা আছে, তা যদি রাখতে পারে, তার চেয়ে আনন্দ আমার নেই। ষোড়শী কহিল, তা হলে পড়ি ? জীবানন্দ চুপ করিয়া রহিল। ষোড়শী কাগজখানি হাতের পর মেলিয়া ধরিয়া হেঁট হইয়া সেই ছত্র-কয়েকের লিখনটুকু এক নিঃশ্বাসে পড়িয়া ফেলিয়া নিৰ্ব্বাক ও নিশ্চল ইইয়া দাড়াইয়া রহিল। বাহিরে তাহার নাম লিখা থাকিলেও, বস্তুত এ পত্র তাহার নয়। ভিতরে ছিল— ফকিরসাহেব, ষোড়শীয় আসল নাম অলকা। সে আমার স্ত্রী। আপনার কুষ্ঠাশ্রমের কল্যা. ጏዓ¢ ¢ o ,