প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&S সকাল হইতে না-হইতে চণ্ডীগড়ের সমস্ত ইতর-ভদ্র হাহাকার করিয়া আসিয়া পড়িল । শিরোমণি আসিলেন, রায়মহাশয় আসিলেন, তারাদাস অসিলেন, এবং আরও অনেক ভদ্র ব্যক্তি—পোড়া শান্তিকুঞ্জের সব পুড়িল না, দৈবাৎ কিছু রক্ষা পাইল ; এবং যাহা পুড়িল তাহার দাম কত, এবং যাহা বাঁচিল তাহ সামান্ত এবং অকিঞ্চিৎকর কি না, ইত্যাদি তথ্য সবিস্তারে ও নিশ্চয করিয়া আহরণ করিতে ছুটিয়া আসিলেন । এবং ইহা কেমন করিয়া হইল ও কে করিল ? সকলের মাঝখানে এককড়ি নদী তুমুল কাণ্ড করিতে লাগিল। সৰ্ব্বনাশ যেন তাহারই হইয়া গেছে। সে সৰ্ব্বসমক্ষে ডাক ছাড়িয়া প্রকাশ করিল যে, এ-কাজ সাগর সর্দারের। সে ও তাহার জন-দুই সঙ্গীকে কেহ কেহ কাল অনেক রাত্রি পর্য্যন্ত বাহিরে ঘুরিয়া বেড়াইতে দেখিয়াছে। থানায় এতেল পাঠানো হইয়াছে, পুলিশ আসিল বলিয়া । সমস্ত ভূমিজ-গোষ্ঠীকে যদি না সে এই ব্যাপারে আন্দামানে পাঠাইতে পারে ত তাহার নাম এককড়ি নদী নয়—বৃথাই সে এতকাল হুজুরের সরকারে গোলামী করিয়া মরিল ! নিৰ্ব্বাপিতপ্রায় অগ্ন্যুত্তাপ হইতে একটু দূরে একটা বটবৃক্ষছায়াতলে সভা বসিয়াছিল। জীবানন্দ উপস্থিত ছিলেন, তাহার মুখের উপর শ্রাস্তির অবসন্নতা ছাড়া উদ্বেগ বা উত্তেজনা কিছুই ছিল না, একটু হাসিয়া কহিলেন, তা হ’লে তোমাকেও ত এদের সঙ্গে যেতে হয় এককড়ি । জমিদারের গোমস্তাগিরি কাজে তুমি যাদের. ঘরে আগুন দিয়েচ, সে-খবর ত আমি জানি । আগুন লাগাতে কেউ তাদের চোখে দেখেনি, মিথ্যে সন্দেহের উপর পুলিশ যদি তাদের উপর অত্যাচার করে, সত্যি কাজের জন্য তোমাকেও তার ভাগ নিতে হবে। তাহার কথা শুনিয়া সকলেই অবাক হইল। এককড়ি প্রথমে হতবুদ্ধি হইয়া রহিল, পরে ইহাকে পরিহাসের আকৃতি দিতে শুষ্ক-হাস্তের সহিত বলিল, হুজুর মাবাপ ! আমাদের সাতপুরুষ হলো হুজুরের গোলাম। হজুরের আদেশে শুধু জেল কেন, ফঁাসি যাওয়াও আমাদের অহঙ্কার । জীবানন্দ বিরক্ত হইয়া কহিলেন, আমাকে না জানিয়ে পুলিশে খবর দেওয়া তোমার উচিত হয়নি। যা পুড়েছে সে আর ফিরবে না, কিন্তু এর উপর যদি পুলিশের সঙ্গে জুটে নতুন হাঙ্গামা বাধিয়ে দু’পয়সা উপরি রোজগারের চেষ্টা কর, তা হলে লোকসানের মাত্র ঢের বেড়ে যাবে। অনেকেই মুখ টিপিয়া হাসিল। এককড়ি জবাব দিতে পারিল না—কোধে মুখ , ኃፃሕ”.