প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৯৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনা গিয়াছিল বহু চেষ্টাতেও তাহার সন্ধান মিলে নাই। সাতদিন সময় পাইয়া হৈমন্ত্র নিশ্চিত ভরসা হইয়াছিল ছেলেকে সঙ্গে করিয়া গিয়া একবার কাদিয়া পড়িতে পারিলে সে কিছুতেই না বলিতে পারিবে না ; কিন্তু সে অাশা বৃথা হইতে বসিল । এই কয়দিন প্রায় প্রত্যহই নিৰ্ম্মলকে সদরে যাইতে হইতেছিল। এই যে বিস্ত্রী মামলাটা বাধিবে, তাহার সকল ছিদ্রপথই যে আগে হইতে বন্ধ করা আবশ্যক। সেদিন দুপুরবেলা সে রেজেষ্ট্রি অফিসের বারান্দার একধারে একথান। বেঞ্চের উপর বসিয়া কতকগুলা প্রয়োজনীয় দলিলপত্রের নকল লইয়া নিবিষ্টচিঙ্গে পড়িতেছিল, হঠাৎ স্বমুখেই ডাক শুনিল, জামাইবাবু, সেলাম। ভাল আছেন ? নিৰ্ম্মল চমকিয়া মুখ তুলিয়া দেখিল, ফকিরসাহেব। র্তাহারও হাতে একতাড়া কাগজ। তাড়াতাড়ি উঠিয়া অভিবাদন করিয়া তাহার দুই হাত ধরিয়া পাশে বসাইয়া কহিল, শুনেছিলাম আপনাকে ডাকলেই আপনার দেখা মেলে। এ-কয়দিন মনে মনে আমি প্রাণপণে ডাকছিলাম । ফকির হাসিলেন, কহিলেন, কেন বলুন ত? ষোড়শীকে আমার বড় প্রয়োজন । তিনি কোথায় আছেন ? অামাকে দেখা করতেই হবে। ফকির বিস্মিত হইলেন না, আনন্দ প্রকাশ করিলেন না, বলিলেন, দেখা না হওয়াই ত ভাল । নিৰ্ম্মল অত্যন্ত লজ্জিত হইল। কহিল, আপনি হয়ত সৰ্ব্বঞ্জ। তা যদি হয়, জানেন ত আমাদের কত প্রয়োজন । ফকির কহিলেন, না, আমি সৰ্ব্বজ্ঞ নয়, কিন্তু মা ষোড়শী কোন কথাই আমাকে গোপন করেন না । একটু থামিয়া বলিলেন, দেখা হওয়া না-হওয়ার কথা তিনিই জানেন, আমি জানিনে, কিন্তু তার সমস্ত ব্যপায় আপনাকে জানাতে আমার বাধা নেই। কারণ, একদিন যখন সবাই তার সর্বনাশে উষ্ঠত হয়েছিল, তখন আপনিই একাকী তাকে রক্ষা করতে দাড়িয়েছিলেন। আমি তার মুখেই এ-কথা শুনেচি । নিৰ্ম্মল কহিল, আর আজ সেইটি উন্টে দাড়িয়েচে ফকিয়সাহেব । এখন কেউ যদি তাদের বাচাতে পারে ত তিনিই পারেন। ফকিরের মুখ অপ্রসন্ন হইল। ইহার বিস্তৃত বিবরণের জন্য তিনি কৌতুহল প্রকাশ না করিয়া কেবল কহিলেন, চণ্ডীগড়ের খবর জানিনে। কিন্তু আমি বলি, তাদের ভাল করার ভার ভগবানের উপর আপনি ছেড়ে দিন । আমার মাকে আর এর মধ্যে জড়াবেন না নিৰ্ম্মলবাবু। - বিগত দিনের সমস্ত দুঃখের ইতিহাস নিৰ্ম্মলের মনে পড়িল। ইহার জবাব দেওয়া কঠিন, সে শুধু কুষ্ঠার সহিত প্রশ্ন করিল, এখন তিনি কোথায় আছেন ?