প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰন্থ রূপার পাত্রে ভুক্তাবশিষ্ট কতকগুলা হাড়গোড় হয়ত সকাল হইতেই পড়িয়া আছে ; তাহারই কাছে পড়িয়া একটা জরি-পাড়ের ঢাকাই চাদর, বোধ হয় হাতের কাছে হাত মুছিবার রুমাল বা গামছার অভাবেই ইহাতে হাত মুছিয়া ফেলিয়া দিয়াছে। বইয়ের ছায়ায় লোকটার মুখের চেহারা ষোড়শী দেখিতে পাইল না, কিন্তু তবুও তাহার মনে হইল ইহাকে সে আয়নার মত স্পষ্ট দেখিতে পাইয়াছে। ইহার ধৰ্ম্ম নাই, পুণ্য নাই, লজ্জা নাই, সঙ্কোচ নাই—এ নিৰ্ম্মম, এ পাষণ। ইহার মুহূর্বের প্রয়োজনের কাছেও কাহারও কোন মূল্য কোন মৰ্য্যাদা নাই। এই পিশাচপুরীর অভ্যস্তরে এই ভয়ঙ্করের হাতের মধ্যে আপনাকে একান্তভাবে কল্পনা করিয়া ক্ষণকালের জন্য ষোড়শীর সকল ইন্দ্রিয় যেন অচেতন হইয়া পড়িতে চাহিল। সাড়া পাইয়া লোকটা জিজ্ঞাসা করিল, কে ? বাহির হইতে সদার ঘটনাট সংক্ষেপে বিবৃত করিয়া চক্ৰবৰ্ত্তীর উদ্দেশে একটা অকথ্য গালি দিয়া কহিল, হুজুর ! উস্কো বেটিকে পাকড় লায়া। কাকে ? ভৈরবীকে ? বলিয়া জীবানন্দ বই ফেলিয়া ধড়মড় করিয়া উঠিয়া বসিল । বোধ হয় এ হুকুম সে দেয় নাই । কিন্তু পরক্ষণেই কহিল, ঠিক হয়েচে । আচ্ছা যা । তাহারা চলিয়া গেলে ষোড়শীকে উদ্দেশ করিয়া প্রশ্ন করিল, তোমাদের আজ টীকা দেবার কথা ! এনেচ ? ষোড়শীর শুষ্ক কণ্ঠ রুদ্ধ হইয়া রহিল, কিছুতেই স্বর ফুটিল না । জীবানন্দ ক্ষণকাল অপেক্ষা করিয়া পুনরায় কহিল, আনো নি জানি । কিন্তু কেন ? এবার ষোড়শী প্রাণপণ চেষ্টায় জবাব দিল । আস্তে আস্তে বলিল, আমাদের নেই। না থাকলে সমস্ত রাত্রি তোমাকে পাইকদের ঘরে আটকে থাকতে হবে । তার মানে জানো ? ষোড়শী দ্বারের চৌকাঠটা দুই হাতে সবলে চাপিয়া ধরিয়া চোখ বুজিয়া নীরব হইয়া রহিল। অসম্ভব বলিয়া সে এখানে কিছু ভাবিতেও পারিল না । তাহার এ ভয়ানক বিবর্ণ মুখের চেহারা দূর হইতেও বোধ হয় জীবানন্দের চোখে পড়িল, এবং মুৰ্চ্ছা হইতে তাহার এই আত্মরক্ষার চেষ্টাটাও বোধ হয় তাহার অগোচর রহিল না ; মিনিট-খানেক সে নিজেও কেমন যেন আচ্ছরের ন্যায় বসিয়া রহিল। তারপরে বাতির আলোটা হঠাৎ হাতে তুলিয়া লইয়া এই মৃতকল্প অবচেতনপ্রায় রমণীর একেবারে মুখের কাছে আসিয়া দাড়াইল, এবং আরতির পূৰ্ব্বে পূজারী যেমন করিয়া দ্বীপ জালিয়া প্রতিমার মুখ নিরীক্ষণ করে, ঠিক তেমনি করিয়া এই ৯ নী