প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২০৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ চোপড় লইয়া সে বোধ করি নিরুদেশ। গুরুচরণ আর ঠেস দিয়া থাকিতেও পারিলেন ন, ছকটি উচু করিয়া ধরিয়া এলাইয়া পড়িলেন। মনে মনে বলিলেন, ভগবান, এই কলিকাতা শহরে প্রতিদিন কত লোক গাড়ি-ঘোড়া চাপা পড়িয়া অপঘাতে মরে, তারা কি আমার চেয়েও তোমার পায়ে বেশী অপরাধী ! দয়াময় ! তোমার দয়ায একটা ভাবী মোটরগাড়ি যদি বুকের উপব দিয়া চলিয়া যায় ! আন্নাকালী জল আনিয়া বলিল, বাবা ওঠ, জল এনেচি । গুরুচরণ উঠিয়া সমস্তটুকু এক নিশ্বাসে পান কবিয়া ফেলিয়া বলিলেন, আঃ, যা মা, গেলাসটা নিয়ে যা । সে চলিয়া গেলে গুরুচরণ অবাব শুইষা পড়িলেন । ললিতা ঘরে ঢুকিয় বলিল, মামা, চা এনেচি ওঠ । চায়ের নামে গুরুচরণ আব একবাব উঠিয়া বসিলেন। ললিতার মুখের পানে চাহিয় তাহার অৰ্দ্ধেক জালা যেন নিভিয়া গেল, বলিলেন, সাবরাত জেগে আছিস মা, আৰ্য আমার কাছে এসে একবাব বোস । ললিত। সলজ্জহাস্তে কাছে বসিয়া বলিল, আমি বাত্তিরে জাগিনি মামা । এই জীর্ণ শীর্ণ গুরুভাবগ্রস্ত অকালবৃদ্ধ মাতুলেব হৃদয়ের প্রচ্ছন্ন স্থগভীর ব্যথাটা তার চেয়ে বেশি এ সংসাবে আক কেহ অতুভব করিত না । গুরুচরণ বলিলেন, ত৷ হোক আয়, আমাক কাছে আয় । ললিত কাছে আসিয়া বসিতেই গুরুচরণ তাহাব মাথায় হাত দিয়া সহসা বলিয়া উঠলেন, আমার এই মাটিকে যদি রাজাব ঘবে দিতে পাবতুম, তবেই জানতুম একটা কাজ কল্পম । ললিত মাথা হেঁট করিয়া চা ঢালিতে লাগিল। তিনি বলিতে লাগিলেন, ই মা, তোব দুঃখী মামার ঘরে এসে দিনরাত্রি খাটতে হয়, না ? ললিত মাথ নাড়িয়। বলিল, দিবারাত্রি খাটতে হবে কেন মামা ? সবাই কাজ করে, আমিও করি । এইবার গুরুচরণ হাসিলেন । চা থাইতে খাইতে বলিলেন, ই ললিত, আজ তবে রান্না-বান্নার কি হবে মা ? ললিতা মুখ তুলিয়া বলিল, কেন মামা, আমি রাধব যে ? গুরুচরণ বিস্ময় প্রকাশ করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, তুই রাধবি কি মা, রাধতে কি তুই জানি ? জানি মামা । আমি মামিমার কাছে সব শিখে নিয়েচি । গুরুচরণ চায়ের বাটটা নামাইয়া ধরিয়া বলিলেন, সত্যি ? 戈姆罪