প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিণীভ মা ক্ষণকাল পুত্রের মুখের দিকে চাহিয়া থাকিয়া হঠাৎ জিজ্ঞাসা করিয়া উঠিলেন, ই রে, লেখাপড়া শিখেচে কেমন ? শেখর বলিল, সে ত জিজ্ঞেস করিনি মা ! অতিশয় আশ্চৰ্য্য হইয়া মা বলিলেন, জিজ্ঞেস করিস্নি কি রে! যেটা আজকাল তোদের সবচেয়ে দরকারি জিনিস সেইটেই জেনে আসিনি ? শেখর হাসিয়া বলিল, না মা, ওকথা আমার মনেই ছিল না । ছেলের কথা শুনিয়া একবার তিনি অতিশয় বিশ্বিত হইয়া ক্ষণকাল তাহার মুখপানে চাহিয়া হাসিয়া বলিলেন, তবে ওখানে বিয়ে করবিনে দেখচি ! শেখর কি একটা বলিতে যাইতেছিল, কিন্তু এই সময় ললিতাকে ঘরে ঢুকিতে দেখিয়া চুপ করিয়া গেল। ললিতা ধীরে ধীরে ভূবনেশ্বরীর পিছনে আসিয়া দাড়াইল । তিনি বা হাত দিয়া তাহাকে স্বমুখের দিকে টানিয়া আনিয়া বলিলেন, কি মা ? ললিত চুপি চুপি বলিল, কিছু নাম । ললিতা পূৰ্ব্বে ইহাকে মাসিম বলিত, কিন্তু তিনি নিষেধ করিয়া দিয়া বলিয়াছিলেন, তোর আমি ত মাসি হইনে ললিতে, মা হই । তখন হইতে সে মা বলিয়া ডাকিত। ভূবনেশ্বরী তাহাকে বুকের আরো কাছে টানিয়া লইয়া আদর করিয়া বলিলেন, কিচ্ছ না? তবে বুঝি জামাকে শুধু একবার দেখতে এসেচিম ? ললিত চুপ করিয়া রছিল। শেখর কহিল, দেখতে এসেচে, রাধবে কখন ? মা ৰলিলেন, রাধবে কেন ? শেখর আশ্চৰ্য্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, কে তবে ওদের রাধবে মা ? ওর মামাও ত সেদিন বললেন, ললিতাই রাধা-বাড়া সব কাজ করবে । মা হাসিয়া উঠিলেন। বলিলেন, ওর মামার কি, যা হোক একটা বললেঞ্জ হ’লো। ওর বিয়ে হয়নি, ওর হাতে খাবে কে ? আমাদের বামুনঠাকরুণকে পাঠিয়ে দিয়েচি, তিনি রাধবেন। বড়বৌমা আমাদের রান্নাবান্না করচেন—আমি দুপুরবেলা ওদের বাড়িতেই আজকাল খাই । শেখর বুঝিল, মা এই দুঃখী পরিবারের গুরুভার হাতে তুলিয়া লইয়াছেন। সে একটা তৃপ্তির নিশ্বাস ফেলিয়া চুপ করিল। মাল-খানেক পরে একদিন সন্ধ্যার পর শেখর নিজের ঘরে কোচের উপর কাত হইয়া একখানি ইংরাজী নভেল পড়িতেছিল। বেশ মন লাগিয়া গিয়াছিল, এমন সময় ললিতা ঘরে ঢুকিয়া বালিশের তলা হইতে চাবি লইয়া শৰ-সাড়া করিয়া দেরাজ খুলিতে লাগিল। শেখর বই হইতে মুখ না তুলিয়াই বলিল, কি ?