প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিণীত। শেখর বলিল, এ ক'দিন খুব তাস চলছিল, না ? ললিতা ঢোক গিলিয়া মৃদুস্বরে কহিল, চারু বললে যে। চারু বললে ? কি বললে ? বলিয়া শেখর মাথা তুলিয়া একবার চাহিয়া দেখিয়া কহিল, একেবারে কাপড় পরে তৈরি হয়ে আসা হয়েছে,–আচ্ছা যাও । ললিতা গেল না, সেইখানেই দাড়াইয়া রহিল । পাশের বাড়ির চারুবালা তাহার সমবয়সী এবং সষ্ট । তাহারা ব্রাহ্ম । শেখর ঐ গিরীনকে ছাড়া আর তাহদের সকলকেই চিনিত। গিরীন পাঁচ-সাত বৎসর পূৰ্ব্বে কিছুদিনের জন্য একবার এদিকে আসিয়াছিল। এতদিন বাকিপুরে পড়িত, কলিকাতায় আসিবার প্রয়োজনও হয় নাই, আসে নাই। তাই শেখর তাহাকে চিনিত না । ললিতা তথাপি দাড়াইয়া আছে দেখিয়া বলিল, মিছে দাড়িয়ে রইলে কেন, যাও। বলিয়া মুখের স্বমুখে বই তুলিয়া লইল । মিনিট-পাঁচেক চুপ করিয়া থাকার পর ললিতা আবার আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, যাব ? যেতেই ত বললুম, ললিতা। শেখরের ভাব দেখিয়া ললিতার থিয়েটার দেখিবার সাধ লোপ পাইল, কিন্তু তাহার না গেলেও যে নয় । কথা হইয়াছিল, সে অৰ্দ্ধেক খরচ দিবে এবং চারুর মামা অৰ্দ্ধেক দিবে। চারুদের ওখানে সকলেই তাহার জন্য অধীর হইয়া অপেক্ষা করিতেছে এবং যত বিলম্ব হইতেছে, তাহদের অধৈৰ্য্যও তত বাড়িতেছে, ইহা সে চোখের উপর দেখিতে লাগিল, কিন্তু উপায়ও খুজিয়া পাইল না। অন্তমতি না পাইয়া যাইবে এত সাহস তাহার ছিল না। আবার মিনিট দু-তিন নি:শব্দ থাকিয়া বলিল, শুধু আজকেব দিনটি—যাব ? শেখর বইটা একপাশে ফেলিয়া দিয়া ধমকাইয়া উঠিল, বিরক্ত করে না ললিতা, যেতে ইচ্ছে হয় যাও, ভাল-মন্দ বোঝবার তোমার যথেষ্ট বয়স হয়েচে । ললিত চমকাইয়া উঠিল। শেখরের কাছে বকুনি খাওয়া তাহার নূতন নহে ; অভ্যাস ছিল বটে, কিন্তু দু-তিন বৎসরের মধ্যে এরকমটি শুনে নাই। ওদিকে বন্ধুর অপেক্ষা করিয়া আছে, সেও কাপড় পরিয়া প্রস্তুত হইয়াছে, ইতিমধ্যে টাকা জানিতে আসিয়া এই বিপত্তি ঘটিয়াছে। এখন তাহাদের কাছেই বা সে কি বলিবে ? কোথাও যাওয়া-আসা সম্বন্ধে আজ পর্য্যন্ত তাহার শেখরের তরফ হইতে অবাধ স্বাধীনতা ছিল, সেই জোরেই সে একেবারে কাপড় পরিয়া সাজিয়া আসিয়াছিল, এখন শুধু যে সেই স্বাধীনতাই এমন ক্ষভাবে খৰ্ব্ব হইয়া গেল তাহা নহে, যেজন্ত হুইল সে কারণটা যে কত বড় লজ্জার, তাহাই আজ তাহার তেরো বছর বয়সে 〉 •