প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰন্থ ধরে তুমি ভৈরবীগিরি করচ , খুব সম্ভব অনেক টাকা জমিয়েচ। দিতে পারবে না কেন ? ষোড়শী তেমনি আস্তে আস্তে উত্তর দিল, আপনাকে ত আগেই জানিয়েচি আমার টাকা নেই । এই সশঙ্ক মৃদু কণ্ঠস্বরের মধ্যেও যে সত্যের দৃঢ়তা ছিল তাহা জমিদারের কানে বাজিল । সে এ লইয়া আর তর্ক করিল না ; কহিল, বেশ, তা হলে আরও দশজনে ষা করচে তাই কর । যাদের টাকা আছে তাদের কাছে জমি বাধা দিয়ে হোক, বিক্রী করে হোক দাও গে । ষোড়শী কহিল, তারা পারে, জমি তাদের । কিন্তু দেবতার সম্পত্তি বাধা দেবার, বিক্ৰী করবার ত আমার অধিকার নেই। জীবানন্দ এক মুহূৰ্ব চুপ করিয়া থাকিয় হঠাৎ হাসিয়া বলিল, নেবার অধিকার কি ছাই আমারই আছে? এক কপদকও না। তবুও নিচ্চি, কেননা আমার চাই । এই চাইটাই হচ্ছে সংসারে খাটি অধিকার । তোমার যথন দেওয়া চাই-ই, তখন —বুঝলে ? ষোড়শী নিঃশব্দে স্থির হইয়া রহিল, জীবানন্দ কহিতে লাগিল, ভাবে মনে হয় তুমি লেখাপড়া কিছু জানো, তা যদি হয় ত জমিদারের প্রাপ্যটা নিয়ে আর হাঙ্গামা ক’রো না—দিয়ো । ষোড়শী এবার সাহস করিয়া মুখ তুলিয়া কহিল, ওটা কি আপনি জমিদারের প্রাপ্য বলতে চান ? জীবানন্দ কহিল, প্রাপ্য বলতে চাই নে ; ওটা তোমাদের দেয় এই বলতে চাই । তোমার মনে হ’তে পারে বটে, অন্য জমিদারকে ত দিতে হয়নি। তার কারণ, তারা আমার মত সরল ছিলেন না। স্পষ্ট করে দাবি করেন নি, কিন্তু প্রায় সমস্ত গ্রামখানাই ধীরে ধীরে বে-দখল করে নিয়েচেন । তারা একরকম বুঝেছিলেন, আমি একরকম বুঝি । স্বাক্, এত রাত্রে কি এক বাড়ি যেতে পারবে ? যাদের সঙ্গে তুমি এসেছিলে তাদের আর সঙ্গে দিতে চাইনে । এতক্ষণ ও এতগুলা কথাবাৰ্ত্তায় ষোড়শীর ভয়টাও কতকটা অভ্যাস হইয়া আসিতেছিল, সে সবিনয়ে কাহল; আপনার হুকুম হলেই যেতে পারি। জীবানন্দ সবিস্ময়ে কহিল, একলা ? এই অন্ধকার রাত্রে ? ভারি কষ্ট হবে যে ! বলিয়া সে হাসিতে লাগিল । তাহার কথা ও হাসির ইঙ্গিত এতই স্পষ্ট যে, যে আশঙ্কা ষোড়শীর কমিতেছিল, তাহাই একেবারে চতুগুণ হইয়া ফিরিয়া আসিল । সে মাথা নাড়িয়া ক্ষীণ কণ্ঠে উত্তর দিল, না, আমাকে এখুনি যেতেই হবে। বলিয়া পা বাড়াইবার উদ্যোগ 8