প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মেয়ে পার করলুম সেজদি। আমি সব জানি,—বলিয়া খাবার জানাইবার জন্য নীচে নামিয়া গেল । ললিতা সেইখানে বসিয়া মালা গাঁথিতে লাগিল । খানিক পরে কালী ফিরিয়া আসিয়া বলিল, আর সকলকেই বলা হয়েচে শুধু শেখরদাকে বলা হয়নি, যাই, বলে আসি, নইলে তিনি দুঃখ করবেন, বলিয়া ও-বাড়ি চলিয়া গেল । কালী পাকা গৃহিণী, সমস্ত কাজ-কৰ্ম্মই সে সুশৃঙ্খলায় করে। শেখরাকে সংবাদ দিয়া নামিয়া আসিয়া বলিল, তিনি এক ছড়া মালা চাইলেন। যাও না সেজদি, শীগগির করে দিয়ে এসে না। আমি ততক্ষণ এদিকের বন্দোবস্ত করি—লগ্ন শুরু হয়ে গেছে, আর সময় নেই । ললিতা মাথা নাড়িয়া বলিল, আমি পারব না কালী, তুই দিয়ে আয়। আচ্ছা যাচ্চি। ওই বড় ছড়াটা দাও, বলিয়া সে হাত বাড়াইল । ললিত হাতে তুলিয়া দিতে গিয়া কি ভাবিয়া বলিল, আচ্ছ, আমি দিয়ে আসচি । কালী গম্ভীর হইয়া বলিল, তাই যাও সেজদি, আমার অনেক কাজ—যাবার ফুরসৎ নেই। তার মুখের ভাব ও কথার ভঙ্গি দেখিয়া ললিত হাসিয়া ফেলিল। একেবারে পাক বুড়ী, বলিয়া হাসিয়া মালা লইয়া চলিয়া গেল। কবাটের কাছে আসিয়া দেখিল, শেখর এক মনে চিঠি লিখিতেছে। দোর খুলিয়া পিছনে আসিয়া দাড়াইল, তাতেও শেখর টের পাইল না! তখন ক্ষণকাল চুপ করিয়া থাকিয় তাহাকে চমকিত করিয়া দিবার অভিপ্রায়ে সে মাল-ছড়াটা সাবধানে শেখরের মাথা গলাইয়া গলায় ফেলিয়া দিয়াই চোঁকির পিছনে বসিয়া পড়িল । শেখর প্রথমটা চমকিয়া উঠিয়া বলিল, এই কালী । পরক্ষণেই ঘাড় ফিরাইয়া দেখিয়া ভয়ানক গম্ভীর হইয়া বলিল, ও কি করলে ললিতা ! ললিত উঠিয়া দাড়াইয়া শেখরের মুখের ভাবে ঈষৎ শক্ষিত হইয়া বলিল, কেন, কি ? শেখর পূর্ণমাত্রায় গাম্ভীৰ্য্য বজায় রাখিয়া বলিল, জান না কি ? কালীকে জিজ্ঞেস করে এসো, আজকের রাত্তিরে গলায় মালা পরিয়ে দিলে কি হয় । এখন ললিত বুঝিল । চক্ষের নিমেষে তাহার সমস্ত মুখ লজ্জায় রাঙা হইয়া উঠিল, গে-না, কক্ষলো না, কক্ষনো না, বলিতে বলিতে ছুটয় ঘর হইতে বাহির হইয় গেল। শেখর ভাকিয়া বলিল, যেয়ে না ললিতা, শুনে যাও-কাজ আছে— শেখরের জাক তাহার কালে গেল বটে, কিন্তু শুনিবে কে ? কোথাও সে থামিতে ३३*