প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিণীত৷ ললিতা আর প্রত্যুত্তর করিল না, মাথা হেঁট করিয়া দাড়াইয়া রহিল। পরিপূর্ণ জ্যোৎস্নাতলে দু’জনে স্তব্ধ হইয়া রহিল। শুধু নীচ হইতে কালীর মেয়ের বিয়ের শাখের শৰ ঘন ঘন শোনা যাইতে লাগিল । কিছুক্ষণ মৌন থাকিয় শেখর কহিল, আর হিমে দাড়িয়ে থেকে না, নীচে যাও। যাচ্চি, বলিয়া ললিতা এতক্ষণ পরে তাহার পায়ের নীচে গড় হইয়া প্রণাম করিয়া উঠিয়া দাড়াইয়া আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, আমি কি করব বলে দিয়ে যাও। শেখর হাসিল, একবার একটু দ্বিধা করিল, তারপর দুই হাত বাড়াইয়া তাহাকে বুকের উপর টানিয়া আনিয়া, নত হইয়া তাহার অধরে ওষ্ঠাধর স্পর্শ করিয়া বলিল, কিছুই বলে দিতে হবে না ললিতা, আজ থেকে আপনিই সব বুঝতে পারবে। ললিতার সর্বশরীর রোমাঞ্চিত হইয়া কঁাপিয়া উঠিল। সে সরিয়া দাড়াইয়া বলিল, আমি হঠাৎ তোমার গলায় মালা পরিয়ে দিয়ে ফেলেচি বলেই কি তুমি এরকম করলে ? শেখর হাসিয়া মাথা নাড়িয়া বলিল, না । আমি অনেকদিন থেকেই ভাবছি, কিন্তু স্থির করে উঠতে পারিনি। আজ স্থির করেছি, কেন না, আজই ঠিক বুঝতে পেরেছি তোমাকে ছেড়ে থাকতে পারব না। ললিতা বলিল, কিন্তু তোমার বাবা শুনলে ভয়ানক রাগ করবেন, মা শুনে দুঃখ করবেন—এ হবে না শে— বাবা শুনলে রাগ করবেন সত্যি, কিন্তু মা খুব খুশী হবেন। সে যাই হোক, যা হবার হয়ে গেছে-এখন তুমিও ফেরাতে পার না, আমিও পারি নে। যাও, নীচে গিয়ে মাকে প্রণাম কর গে। অষ্টম পরিচ্ছেদ মাস-তিনেক পরে একদিন গুরুচরণ মানমুখে নবীন রায়ের ঘরে ঢুকিয়া ফরাসের উপর বসিবার উপক্রম করিতেই, তিনি চিৎকার করিয়া নিষেধ করিলেন, না না না, এখানে নয়—ঐ চৌকীর উপর বসে গিয়ে। আমি অসময়ে আবার স্নান করতে পারব না—বলি, জাত দিয়েচ না কি হে ? - - গুরুচরণ দূরে একটা চৌকীর উপর বসিয়া পড়িয়া মাথা হেট করিয়া রছিল। ૨૭છે