প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিণীত গুরুচরণ জবাব দিলেন না, মাথা হেঁট করিয়া রছিলেন। শেখধ উঠিবার উপক্রম করিতেই হঠাৎ কঁাদ কঁাদ স্বরে বলিয়া উঠিলেন, মাঝে মাঝে এসে বাবা, একেবারে যেন ত্যাগ ক'রো না । সব কথা শুনেচ ত ? শুনেচি বৈ কি, বলিয়া শেখর অন্দরের দিকে চলিয়া গেল। তার পরই ভিতর হইতে গৃহিণীর কান্নার শব্দ উঠিল, বাহিরে বসিয়া গুরুচরণ হেঁট মুখে কেঁাচার খুট দিয়া নিজের চোখের জল মুছিতে লাগিলেন এবং গিরীন অপরাধীর মত মুখ করিয়া জানালার বাহিরে চাহিয়া চুপ করিয়া রহিল। ললিতা পূৰ্ব্বেই উঠিয়া গিয়াছিল। কিছুক্ষণ পরে শেখর রান্নাঘর হইতে বাহির হইয়া বারান্দা পার হইয়া উঠানে নামিতে গিয়ে দেখিল, অন্ধকার কবাটের আড়ালে ললিতা দাড়াইয়া আছে। সে ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণাম করিল এবং দাড়াইয়া উঠিয়া বুকের একান্ত সন্নিকটে সরিয়া আসিয়া মুখ তুলিয়া মুহূৰ্ত্তকাল নিঃশন্ধে কি যেন আশা করিয়া রহিল, তার পর পিছাইয়া গিয়া চুপি চুপি বলিল, আমার চিঠির জবাব দিলে না কেন ? কই, আমি ত পাইনি—কি লিখেছিলে ? ললিতা বলিল, অনেক কথা । সে যাক। সব শুনেচ ত, এখন তোমার কি হুকুম, তাই বল । শেখর বিস্ময়ের স্বরে কহিল, আমার হুকুম ! আমার হুকুমে কি হবে ? ললিত শঙ্কিত হইয়া মুখপানে চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কেন ? তা বই কি ললিতা, আমি কার ওপর হুকুম দেব ? আমার ওপর, আর কার ওপর দিতে পারো ? তোমার ওপরেইবা দেব কেন ? আর দিলেই বা তুমি শুনবে কেন ? শেখরের কণ্ঠস্বর গম্ভীর, ঈষৎ করুণ । এবার ললিত মনে মনে অত্যস্ত ভয় পাইয়া, আর একবার কাছে সরিয়া আসিয়া কাদ কঁাদ গলায় বলিল, যাও—এখন আমার তামাশা ভাল লাগচে না। পায়ে পড়ি, কি হবে বল! ভয়ে রাত্তিরে আমার ঘুম হয় না। ভয় কিসের ? বেশ যা হোক! ভয় হবে না, তুমি কাছে নেই, মা কাছে নেই, মাঝে থেকে মামা কি-সব কাগু করে বসলেন—এখন ম; যদি আমাকে ঘরে নিতে না চান ? শেখর ক্ষণকাল চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, সে সত্যি, মা নিতে চাইবেন না। তোমার মামা অপরের কাছে অনেক টাকা নিয়েচেন, সে-কথা তিনি শুনেছেন তা ছাড়া, তোমরা ব্রাহ্ম, আমরা হিন্দু। o জাম্নাকালী এই সময়ে রায়াধর হইতে ডাক দিল, সেজদি, মা ডাকচেন । షితిe