প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ললিত যেখানে দাড়াইয়াছিল, সেইখানেই ভূমিষ্ট হইয়া প্রণাম করিয়া উভয়েই ধীরে ধীরে বাহির হইয়া গেল । শেখর তাহার ভালমন্দ ও আত্মমর্য্যাদা লইয়া বিবর্ণ পাণ্ডুর-মুখে, বিহ্বল হতবুদ্ধির মত স্তন্ধ হইয়া বসিয়া রহিল। সে আসিল, যাহা বলিবার ছিল বলিয়া চিরদিনের মত বিদায় লইয়া গেল, কিন্তু শেখরের কিছুই বলা হইল না। যেন বলিবার কথা তাহার ছিল না, এইভাবে সমস্ত সময়টুকু কাটিয়া গেল। ললিত কালীকে ইচ্ছা করিয়াই সঙ্গে আনিয়াছিল ; কারণ, সে চাহে না কোন কথা উঠে, ইহাও সে মনে মনে বুঝিল। তাহার পরে, তাহার সৰ্ব্বশরীর ঝিম্ ঝিম্ করিতে লাগিল, মাথা ঘুরিয়া উঠিল, সে উঠিয়া বিছানায় চোখ বুজিয়া শুইয়া পড়িল । একাদশ পরিচ্ছেদ গুরুচরণের ভাঙা দেহ মুঙ্গেরের জল-হাওয়াতেও আর জোড়া লাগিল না। বৎসর-খানেক পরেই তিনি দুঃখের বোঝা নামাইয়া দিয়া চলিয়া গেলেন । গিরীন যথার্থই তাহাকে অতিশয় ভালবাসিয়াছিল এবং শেষ দিন পর্য্যন্ত র্তাহার যথাসাধ্য করিয়াছিল! মৃত্যুর পূৰ্ব্বে তিনি সজল-কণ্ঠে তাহার হাত ধরিয়া অনুরোধ করিয়াছিলেন, সে যে কোন দিন তাহার পর হইয়া না যায় এবং গভীর বন্ধুত্ব যেন নিকট আত্মীয়তায় পরিণত হয় । তিনি ইহা চোখে দেখিয়া যাইতে পারিলেন না, অমুখ-বিমুখে সময় হইল না, কিন্তু পরলোকে বসিয়া যেন দেখিতে পান । গিরীন তখন সানন্দে এবং সৰ্ব্বাস্ত:করণে প্রতিশ্রত হইয়াছিল ! গুরুচরণের কলিকাতার বাটতে যে ভাড়াটিয়া ছিল, তাহার মুখে ভুবনেশ্বরী মধ্যে মধ্যে সংবাদ পাইতেন, গুরুচরণের মৃত্যুসংবাদ তাহারাই দিয়াছিল। তাহার পর এ-বাড়িতে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটিল। নবীন রায় হঠাৎ মারা গেলেন। ভুবনেশ্বরী শোকে দুঃখে পাগলের মত হইয়া বড়বধুর হাতে সংসার সঁপিয়া দিয়া কাশী চলিয়া গেলেন। বলিয়া গেলেন, আগামী বৎসর শেখরের বিয়ের সমস্ত ঠিক হইয়া গেলে তিনি আসিয়া বিবাহ দিয়া যাইবেন। বিবাহের সম্বন্ধ নবীন রায় নিজেই স্থির করিয়াছিলেন। এবং পূর্ক্সেই হইয়া R 8 8