প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ এই বাড়িটা তিনি বিক্রয় করিয়া মুঙ্গেরে জামাইয়ের আশ্রয়ে থাকিবেন, এই তার ইচ্ছা । বাড়িটা বহুদিন হইতে শেখরের পিতার ক্রয় করিবার ইচ্ছা ছিল, এখন উপযুক্ত মূল্যে র্তাহারাই ক্রয় করিলে ইহা একরকম নিজেদেরই থাকিবে, তাহার নিজেরও কোনরূপ ক্লেশ বোধ হইবে না এবং ভবিষ্যতে কখনও এদেশে আসিলে, দুই-একদিন বাস করিয়া যাইতেও পারিবেন—এইসব । শেখর, মাকে জিজ্ঞাসা করিয়া তাহার যথাসাধ্য করিবে বলায় তিনি চোখ মুছিয়া বলিলেন, দিদি কি এর মধ্যে আসবেন না শেখর ? শেখর জানাইল, আজ রাত্রেই তাকে সে আনিতে যাইবে । অতঃপর তিনি একটি একটি করিয়া অন্যান্য সংবাদ জানিয়া লইলেন---শেখরের কবে বিবাহ, কোথায়, কত হাজার, কত অলঙ্কার, নবীন রায় কি করিয়া মারা গেলেন, দিদি কি করিলেন ইত্যাদি অনেক কথা বলিলেন এবং শুনিলেন । শেখর যখন ছুটি পাইল তখন জ্যোৎস্না উঠিয়াছে। এই সময় গিরীন উপর হইতে নামিয়া বোধ করি তাহার দিদির বাটতে গেল। গুরুচরণের বিধবা দেখিতে পাইয়া প্রশ্ন করিলেন, আমার জামাইয়ের সঙ্গে তোমার আলাপ নেই শেখরনাথ ? এমন ছেলে সংসারে আর হয় না । শেখরের তাহাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই, তাহা সে জানাইল এবং আলাপ আছে বলিয়া দ্রুতপদে বাহির হইয়া গেল, কিন্তু বাহিরের বসিবার ঘরের স্বমুখে আসিয়া তাহাকে সহসা থামিতে হইল । অন্ধকার দরজার আড়ালে ললিতা দাড়াইয়া ছিল, বলিল, শোনো, মাকে কি আজই আনতে যাবে ? শেখর বলিল, হঁ। তিনি কি বড় বেশী কাতর হয়ে পড়েচেন ? হ্যা, প্রায় পাগলের মত হয়ে পড়েছিলেন । তোমার শরীর কেমন আছে ? ভাল আছে, বলিয়া শেখর তাড়াতাড়ি চলিয়া গেল । রাস্তায় আসিয়া তাহার আপাদমস্তক ঘৃণায় শিহরিয়া উঠিল। ললিতার কাছাকাছি দাড়াইতে হইয়াছিল বলিয়া তাহার নিজের দেহটাও যেন অপবিত্র হইয়া গিয়াছে, এমনি মনে হইতে লাগিল । ঘরে ফিরিয়া আসিয়া সে যেমন-তেমন করিয়া তোরঙ্গ বন্ধ করিয়া ফেলিল এবং তখনও গাড়ির বিলম্ব আছে জানিয়া, আর একবার শয্যাশ্রয় করিয়া ললিতার বিষাক্ত স্মৃতিটাকে পোড়াইয়া নিঃশেষ করিয়া দিবে মনে করিয়া সে হৃদয়ের রন্ধে রস্ত্রে ঘৃণার দাবানল জালিয়া দিল। দাহনের যাতনায় সে তাকে মনে মনে অকথ্য ভাষায় তিরস্কার করিল, এমন কি, কুলট " 8 %