প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কথা উঠে, তখন কলিকাতায় ফিরিয়া আসিয়া শুনেন নরেন্দ্রের পিতার মৃত্যু হইয়াছে। সে সময় তাহার সাংসারিক অবস্থা ইদুর পিতা-মাতা যথেষ্ট পর্যালোচনা করিয়াছিলেন, এমন কি, তাহাদের মত পর্য্যন্ত ছিল না ; শুধু বয়স্থা শিক্ষিত কন্যার প্রবল অনুরাগ উপেক্ষা করিতে না পারিয়াই অবশেষে তাহারা সম্মত হইয়াছিলেন। এত কথা এত শীঘ্ৰ ইন্দু যথার্থই ভুলিয়াছে কিংবা মিথ্যা মোহে অন্ধ হইয়া, নিজেকে প্রতারিত করিবার নিদারুণ আত্মগ্লানি এখন এমন করিয়া তাহাকে অহরহ জালাইয়া তুলিতেছে, কিছুই স্থির করিতে না পারিয়া নরেন্দ্র স্তব্ধ-নিরুত্তরে মাথা হেঁট করিয়া রহিল। সেই নিৰ্ব্বাক্ স্বামীর আনত মুখের প্রতি ক্ষণকাল দৃষ্টিপাত করিয়া, ইন্দু আর কোন কথা না বলিয়া ঘর ছাড়িয়া চলিয়া গেল। সে নি:শব্দে গেল বটে—এমন অনেকদিন গিয়াছে; কিন্তু আজ অকস্মাৎ নরেন্দ্রের মনে হইল, তাহার বুকে বড় বেদনার স্থানটা ইন্দু যেন ইচ্ছাপূর্বক জোর করিয়া মাড়াইয়া দিয়া বাহির হইয়। গেল। একবার ঈষৎ একটু ঘাড় তুলিয়া স্ত্রীর নিষ্ঠুর পদক্ষেপ চাহিয়া দেখিল ; যখন আর দেখা গেল না, তখন গভীর—অতি গভীর একটা নিশ্বাস ফেলিয়া নিজীবের মত সেইখানেই এলাইয়া শুইয়া পড়িল । সহসা আজ প্রথমে মনে উদয় হইল, সমস্ত মিথ্যা—সব ফাকি। এই সংসার, স্ত্রী-কন্যা, স্নেহ-প্রেম—সমস্তই আজ র্তাহার কাছে এক নিমিষে মরুভূমির মরীচিকার মত উবিয়া গেল। Ψ) झांझ ! কে রে, বিমল ? আয় বোন বোস্ ! বলিয়া নরেন্দ্ৰ শয্যার উপরে উঠিয়া বসিল। তাহার উভয় ওষ্ঠপ্রাস্তে ব্যথার যে চিহ্নটুকু প্রকাশ পাইল তাহা বিমলার দৃষ্টি এড়াইল না। অনেকদিন দেখিনি দিদি, ভাল আছিস ত ? বিমলার চোখ দুটি ছল ছল করিয়া উঠিল। সে ধীরে ধীরে শয্যাপ্রান্তে আসিয়া বলিল, কেন দাদা তোমার অসুখের কথা আমাকে এতদিন জানাওনি ? অস্থখ তেমন তো কিছুই ছিল না বোন, শুধু সেই বুকের ব্যথাটা একটু— বিমলা হাত দিয়া এক ফোটা চোখের জল মুছিয়া ফেলিয়া বলিল, একটু বৈ-কি ? উঠে বসতে পার না—ডাক্তার কি বললে ? રજ્યાર