প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ও কিছু না, বলিয়া সে লেখাগুলো চাপা দিয়া রাখিল। ইন্দুর প্রসন্ন মুখ মেঘাবৃত হইয়া উঠিল। কহিল, তা হলে কিছু-না’র উপর অত বুকে না পড়ে বরং যাতে দুঃখ-কষ্ট ঘোচে এমন কিছুতেই মন দাও। শুনলুম, দাদার হাতে নাকি গোটাকতক চাকরি খালি আছে। বলিয়া ভাল করিয়া স্বামীর মুখের পানে চাহিয়া রহিল। সে নিশ্চয় জানিত, এই চাকুরি করার কথাটা তাহাকে চিরদিন আঘাত করে । আজ কিন্তু আশ্চৰ্য্য হইয়া দেখিল, আঘাতের কোন বেদনাই তাহার মুখে প্রকাশ পাইল না। - নরেন্দ্র শাস্তভাবে বলিল, চাকরি করবার লোকও সেখানে আছে এই সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত উত্তরে ইন্দু ক্রোধে জ্বলিয়া উঠিল। ক্ষণকাল অবাকৃ হইয়া থাকিয়া বলিল, তা জানি । কিন্তু সেখানে আছে, এখানে নেই নাকি ? আজকাল ভাল কথা বললে যে তোমার মন্দ হয় দেখচি ! ঘরের কোণে ঘাড় গুজে বসে কবিতা লিখতে তোমার লজ্জ করে না ? বলিয়া সে চোখ-মুখ রাঙা করিয়া ঘর ছাড়িয়া গেল। এই দ্বিতীয় সাক্ষাৎ ৷ অ্যা—এ যে বোঁ ! কখন এলে! পরশু দুপুর-বেলা । পরশু দুপুর-বেলা ! তাই এত তাড়াতাড়ি আজ সন্ধ্যাবেলায় দেখা দিতে এসেচ ? না ভাই বোঁ, টানটা একটু কম করো! ইন্দু ঘাড় নাড়িয়া কহিল, চিঠি লিখে জবাব পৰ্য্যস্ত পাইনে। আমি এক আর কত টানব ঠাকুরবি ? বিমলা আশ্চৰ্য্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, জবাব পাওনি ? সে না পাওয়াই। চার পাতার জবাব চার ছত্র ত ? বিমলা অপ্রতিভ হইয়া বলিল, তখন এতটুকু সময় ছিল না ভাই। এ-ঘরে দাদা যদি বা একটু সারলেন, ওদিকে আবার নতুন ভাড়াটে যায় যায়। ইন্দু কথাটার একবর্ণও বুঝিল না, হা করিয়া রহিল। বিমল সেদিকে মনোযোগ না করিয়া বলিতে লাগিল, সেই মঙ্গলবারটা আমার চিরকাল মনে থাকবে। সাত দিনের দিন খবর পেয়ে দাদাকে নিয়ে এলুম, তার দুদিন পরে দাদার বুকের ব্যথার যেমন বাড়াবাড়ি, অম্বিকাবাবুর অমুখটাও তেমনি বেড়ে উঠল—তোমাকে বলব কি বোঁ, সেক দিতে দিতে আর ফোমেন্ট করতে করতে বাড়িম্বন্ধ লোকের হাতের চামড় উঠে গেল—সারা দিন-রাত কারু নাওয়াখাওয়া পৰ্য্যন্ত হ’লে না। ই, সতী-সাধী বলি ওই অম্বিকাবাবুর স্ত্রীকে। ছেলে "לצאי