প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দর্পচূর্ণ রাখ না ; নইলে বুঝিয়ে দিতে পারতুম, কৰ্ত্তব্য শুধু একদিকে থাকে না। হয় দু’দিকে থাকবে, না হয় থাকবে না । পুরুষেরা এ-কথা আমাদের বুঝতে দেয় না ; দেয়-না বলেই আমরা অম্বিকাবাবুর স্ত্রীর মত মৃত্যুপণ করে সেবা করি। বিমলা মুহূৰ্ত্তকাল চাহিয়া থাকিয়া কহিল, না হলে করতাম না! বোঁ, সেবা করাটা কি স্ত্রীর বড় দুঃখের কাজ বলে মনে কর ? অম্বিকাবাবুর স্ত্রীর বাইরের ক্লেশটাই দেখতে পাও, তার ভেতরের আনন্দটা জানতে পাও কি ? আমি জানতেও চাইনে । স্বামীর ভালবাসাটাও বোধ করি জানতে চাও না ? না ঠাকুরবি, অরুচি হয়ে গেছে। বরং ওটা কম করে নিজের কর্তব্যটা করলেই হাফ ছেড়ে বাচি । বিমলা দাড়াইয়াছিল, নিশ্বাস ফেলিয়া ধীরে বসিয়া পড়িয়া বলিল, ঠিক এই কথাটা আগেও একবার বলেচ। কিন্তু তখনও বুঝতে পারিনি, এখনও বুঝতে পারলুম না ; আমার দাদা তার কৰ্ত্তব্য করেন না! কি সে, তা তুমিই জানো। অনেক বই পড়েচ, অনেক দেশের খবর জানো—তোমার সঙ্গে তর্ক করা সাজে না ; কিন্তু আমার দৃঢ় বিশ্বাস স্বামী ন্যায়-অন্যায় যাই করুন, তার ভালবাসা অগ্রাহ করবার স্পৰ্দ্ধা কোন দেশের স্ত্রীরই নেই। আমার ত মনে হয়, ও জিনিস হারানোর চেয়ে মরণ ভাল ; তার পরেও বেঁচে থাকা শুধু বিড়ম্বন । - আমি তা মানিনে । মানে নিশ্চয়ই, বলিয়া বিমলা হাসিয়া ফেলিল। তাহার সহসা মনে হইল, এ সমস্তই পরিহাস । সত্যই ত পরিহাস ভিন্ন নারীর মুখে ইহা আর কি হইতে পারে! কহিল, কিন্তু তাও বলি বোঁ, আমার কাছে যা মুখে আসে বলচ, কিন্তু দাদার সামনে এ-সব নিয়ে বেশি চালাকি ক’রে না। কেন না, পুরুষমানুষ যতই বুদ্ধিমান হোন, অনেক সময়ে— কি—অনেক সময়ে ? তামাশা কি না, ধরতে পারে না । সে তার কাজ। আমি তা নিয়ে দুর্ভাবনা করিনে। কিন্তু আমি যে না ভেবে থাকতে পারিনে বোঁ ! ইন্দু জোর করিয়া হাসিয়া প্রশ্ন করিল, কেন বল ত ? বিমলা একটুখানি ভাবিয়া বলিল, রাগ করে না বোঁ ; কিন্তু সেই অমুখের সময় আমার সত্যিই মনে হয়েছিল, দাদা যে তোমাকে পাবার জন্যে একসময় পাগল হয়ে উঠেছিলেন, সেই যে কি বলে “পায়ে কাট ফুটলে বুক পেতে দেওয়া”—কিন্তু, সে-ভাব আর বুঝি নেই। כרא