প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


भन्नै९-नश्डिा-न१थइ বাবা কাল রাত্রেই তার কাছে গিয়ে সমস্ত জানিয়েছেন । কেবল তাতেই এতটা হ’তে মা, কে-সাহেবের নিজেরই আমার উপর ভারি রাগ। গত বংসর দুবার ফঁাদে ফেলবার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারে নি—আজি একেবারে হাতে হাতে ধরে ফেলেছে, বলিয়া সে একটু হাসিল । এককড়ি মুখ চুন করিয়া পাশে দাড়াইয়া ছিল, কহিল, হুজুর, এবার বোধ হয় আমাদেরও আর রক্ষে নেই। জীবানন্দ ঘাড় নাড়িয়া বলিল, সম্ভব বটে। ষোড়শীকে কহিল, শোধ নিতে চাও ত এই-ই সময় । আমাকে জেলে দিতেও পারো । ষোড়শী জবাব দিতে গিয়া মুখ তুলিয়াই দেখিল জীবানন্দ তাহার মুখের প্রতি একদৃষ্টে চাহিয়া আছে। চোখ নামাইয়া ধীরে ধীরে জিজ্ঞাসা করিল, এতে জেল হবে কেন ? জীবানন্দ কহিল, আইন । তা ছাড়া কে-সাহেবের হাতে পড়েচি। বাদুড়বাগানের মেসে থাকতে, এরই কাছে একবার দিন-কুড়ি হাজত বাসও হয়ে গেছে । কিছুতে জামিন দিলে না—আর জামিন বা তখন হ’তো কে ! ষোড়শী হঠাৎ উৎসুক-কণ্ঠে প্রশ্ন করিয়া ফেলিল, আপনি কি কখনো বাদুড়বাগানের মেসে ছিলেন ? জীবানন্দ কহিল, ই । ওই সময়ে একটা প্রণয়কাণ্ডের বৃনে হয়েছিলুম—ব্যাট আয়ান ঘোষ কিছুতেই ছাড়লে না—পুলিশে দিলে। যাক, সে অনেক কথা । কে আমাকে ভোলেনি, বেশ চেনে। আজও পালাতে পারতুম, কিন্তু ব্যথায় শয্যাগত হয়ে পড়েচি, নড়বার জো নেই । ষোড়শী আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, কালকের ব্যথাটা কি আপনার সারে নি ? জীবানন্দ কহিল, না, ভয়ানক বেড়েচে । তা ছাড়া এ সারবার ব্যথাও নয় । ষোড়শী একটুখানি চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, আমাকে কি করতে হবে ? জীবানন্দ কহিল, শুধু বলতে হবে তুমি নিজের ইচ্ছেয় এসেচ, নিজের ইচ্ছেয় এখানে আছো । তার বদলে তোমার সমস্ত দেবোত্তর ছেড়ে দেব, হাজার টাকা নগদ দেব, আর নজরের ত কথাই নেই । এককড়ি এই কথাগুলারই বোধ হয় প্রতিধ্বনি করিতে যাইতেছিল, কিন্তু ষোড়শীর মুখের পানে চাহিয়া সহসা থামিয় গেল। ষোড়শী সোজা জীবানন্দের মুখের দিকে চাহিয়া বলিল, এ-কথা স্বীকার করার অর্থ বোঝেন ? তারপরেও কি আমার জমিতে, টাকা-কড়িতে প্রয়োজন থাকতে পারে বলে আপনি মনে করেন ? জীবানদের মুখখান প্রথমে ফ্যাকাশে হইল, এবং সেই পাণ্ডুর মুখের তীক্ষ তীব্র ছুটি চক্ষে কোথা হইতে তাহার গত রাত্রির তেমনি মুগ্ধ দৃষ্টি যেন ধীরে ধীরে ফিরিয়া ॐ क