প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৮০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ডাক্তার চিস্তা করিয়া কহিলেন, দেখুন আমারও সন্দেহ হয়, শুধু ওষুধে কিছু হবে না। একবার জল-হাওয়া পরিবর্তন আবশ্যক। তাই কেন তাকে বলেন না ? বলেছিলাম একদিন । তিনি কিন্তু প্রয়োজন মনে করেন না । ইন্দু রুষ্ট হইয়া বলিয়া ফেলিল, তিনি মনে না করলেই হবে? আপনি ডাক্তার, আপনি যা বলবেন তাই ত হওয়া উচিত। বৃদ্ধ চিকিৎসক একটু হাসিলেন। ইন্দু নিজের উত্তেজনায় লজ্জিত হইয়া বলিল, দেখুন, আমি বড় ব্যাকুল হয়ে পড়েচি, আপনি ওঁকে খুব ভয় দেখিয়ে দিন । ডাক্তার মাথা নাড়িয়া ধীরে ধীরে কহিলেন, এ-সকল রোগে ভয় ত আছেই। ইন্দুর মুখ পাংশু হইয়া গেল, কহিল, সত্যি ভয় আছে ? তাহার মুখের পানে চাহিয়৷ ডাক্তার সহসা জবাব দিতে পারিলেন না। ইন্দুর চোখে জল আসিয়া পড়িল ; বলিল, আমি আপনার মেয়ের মত ডাক্তারবাবু, আমাকে লুকোবেন না। কি হয়েচে, খুলে বলুন। ঠিক যে কি হইয়াছে তাহা ডাক্তার নিজেও জানিতেন না। তিনি নানা রকম করিয়া যাহা কহিলেন তাহাতে ইদুর ভয় ঘুচিল না। সে ঘরে ফিরিয়া আসিয়া কাদিতে লাগিল । বিকালবেলা নরেন্দ্র হাতের কলমটা রাখিয়া দিয়া খোলা জানালার বাহিরে চাহিয়া ছিল, ইন্দুঘরে ঢুকিয় অদূরে একটা চৌকি টানিয়া লইয়া বসিল । নরেন্দ্র একবার মুখ ফিরাইয়া, আবার সেইদিকেই চাহিয়া রহিল। কিছুদিন হইতে ইন্দু টাকা চাহে নাই, আজ সে যে কিজান্ত আসিয়া বসিল, তাহ নিশ্চয় অনুমান করিয়া তাহার বুকের ভিতরটা টিপ ঢিপ করিতে লাগিল। ইদুটাক চাহিল না ; কহিল, ডাক্তারবাবু বলেন, ব্যথাটা যখন ওষুধে যাচ্ছে না, তখন হাওয়া বদলানো দরকার। একবার কেন বেড়াতে যাও না ? নরেন্দ্র বাস্তবিকই চমকিয়া উঠিল। বহুদিন অজ্ঞাত বড় স্নেহের ধন যেন কোথায় লুকাইয়া তাহাকে ডাক দিল। ইন্দুর এই কণ্ঠস্বর সে ত ভুলিয়াই গিয়াছিল। তাই মুখ ফিরাইয়া হতবুদ্ধির মত চাহিয়া ক্ষণকালের জন্য কি যেন মনে মনে খুজিয়া ফিরিতে লাগিল । ইন্দু কহিল, কি বল ? তা হলে কালই গুছিয়ে নিয়ে বেরিয়ে পড়া যাক । বেশি দূরে কাজ নেই-এই বন্তিনাথের কাছে—আমরা দু’জন, কমলা আর ঝি —রামটহল পুরানো বিশ্বাসী লোক, বাড়িতেই থাক্ । সেখানে একটা ছোট বাড়ি নিলেই হবে। তাহলে আজ থেকেই গুছোতে আরম্ভ করুক না কেন ? ኟፃፀ